শক্তির বিভিন্ন উৎস সম্পর্কে আলোচনা করো? - অ্যান্সগুরু
17 বার প্রদর্শিত
"পড়াশোনা" বিভাগে করেছেন

এই প্রশ্নটির উত্তর দিতে দয়া করে প্রবেশ কিংবা নিবন্ধন করুন ।

1 উত্তর

0 পছন্দ 0 জনের অপছন্দ
করেছেন
শক্তির বিভিন্ন উৎস সম্পর্কে নিচে বিস্তারিতভাবে আলোচনা করা হলো:
পানি: পানি শক্তির অন্যতম উৎস।পানির প্রবাহকে ব্যবহার করে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হয়,এই বিদ্যুৎকে জলবিদ্যুৎ বা পানি বিদ্যুৎ বলা হয়।

প্রবাহিত পানির স্রোতকে তিন ধরনের শক্তি আছে- গতিশক্তি,বিভবশক্তি এবং পানির মধ্যে স্থিতিশীল চাপের জন্য সৃষ্ট গতিশক্তি।প্রবাহিত পানির স্রোতকে ব্যবহার করে বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রক্রিয়াটি সহজ।পানির স্রোতের সাহায্যে একটি টার্বাইন ঘোরানো হয়।

এই টার্বাইনের ঘূর্ণন থেকেই এখানে যান্ত্রিক শক্তি ও চৌম্বকশক্তির সমন্বয় ঘটানো হয়।প্রবাহিত পানির স্রোত থেকে যান্ত্রিক শক্তি সংগ্রহ করে চৌম্বক শক্তির সমন্বয়ে তড়িৎ উৎপাদন করা হয় বলে এই ধরনের তড়িতের নাম জলবিদ্যুৎ।

পানির জোয়ার-ভাটা: নদী বা সমুদ্রের পানির জোয়ার-ভাটার শক্তিকে ব্যবহারের প্রচেষ্টা মানুষ বহুদিন থেকে চালিয়ে যাচ্ছে।জোয়ার-ভাটার শক্তিকে কাজে লাগিয়ে বিভিন্ন যন্ত্র চালনার ব্যাপারটি অনেক দিন আগেই উদ্ভাবিত হয়েছে।গত শতাব্দীতে লন্ডন শহরে জোয়ার-ভাটার শক্তির সাহায্যে একটি ইঞ্জিন চালানো হয়েছিল।ফ্রান্সে ১৯১৮ সালে জোয়ার-ভাটার শক্তির সাহায্যে চালানো যায় এমন ২০০ টি যন্ত্রের পেটেন্ট নেওয়া হয়েছিল।জোয়ার-ভাটার শক্তিকে তড়িৎ শক্তিকে রূপান্তরের ব্যাপারটি খুব বেশি দিনের নয়। ১৯৩৪ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে এবং ১৯৪০ সালে তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়নের জোয়ার-ভাটা থেকে তড়িৎ শক্তি উৎপাদনের দুটি প্রকল্প স্থাপিত হলেও উৎপাদন ব্যয় অধিক থাকায় তা চালু করা যায়নি।

ফ্রান্সে জোয়ার-ভাটার শক্তির সাহায্যে চালিত দুইটি তড়িৎশক্তি প্রকল্প সফলতার সাথে কাজ করছে।এদের একটি ৯ মেগাওয়াট বিশিষ্ট উৎপাদন ক্ষমতা সম্পন্ন মার্লো তড়িৎ প্রকল্প,অপরটি ২৪০ মেগাওয়াট বিশিষ্ট উৎপাদন ক্ষমতা সম্পন্ন র্যান্স তড়িৎ প্রকল্প।বর্তমানে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে জোয়ার-ভাটার শক্তিকে কাজে লাগিয়ে তড়িৎ উৎপাদনের চেষ্টা চলছে।


বায়ু শক্তি: আদিম মানুষ ভয় পেত বায়ুকে।সভ্যতার বিকাশ ও বিজ্ঞানের উন্নতির ফলে এই বায়ুকে মানুষ তার বিভিন্ন কাজে ব্যবহার করছে।আদিম মানুষ চার পাঁচটা পাখার সাহায্যে চক্র বানিয়ে বাতাসের সাহায্যে চক্র ঘুরাত।চক্রের ঘূর্ণনকে কাজে লাগিয়ে আদিম মানুষ কুয়া থেকে পানি তোলা,কৃষিসেচ,যব অথবা গম ভাঙানো,আখ মাড়াই,ধানকাটা,খড় কাটা ইত্যাদি কাজ করত।পরে মানুষ বাতাসকে কাজে লাগিয়ে কাঠ চেরাইয়ের মতো দুরূহ কাজও করেছিল।

পৃথিবীর বহু অঞ্চলে মানুষ এ ধরনের কাজে বড় বড় চক্রাকার এক ধরনের যন্ত্র ব্যবহার করত,যার চলতি নাম হলো হাওয়াকল যা বায়ুকল বা উইন্ড মিল।বাষ্পচালিত ও বিদ্যুৎ চালিত কল এসে উইন্ড মিলের ব্যবহার মানুষকে প্রায় ভুলিয়ে দিল।ফলে এল জীবাশ্ম জ্বালানি (কয়লা ও খনিজ তেল) চালিত যন্ত্র।মানুষ একেবারে ভুলে গেল বায়ুকলের কথা।এখন যখন কয়লা ও তেলের ভাণ্ডারে টান পড়তে শুরু করেছে,এসবের ব্যবহারে পরিবেশ দূষিত হচ্ছে,তখন মানুষ নতুন করে ভাবতে শুরু করেছে বায়ুকল বা উইণ্ড মিলের কথা।তবে এখন হাওয়া কল ব্যবহৃত হচ্ছে তড়িৎ উৎপাদনের কাজে।মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র উইন্ড মিল ব্যবহার করে তড়িৎ উৎপাদনের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি এগিয়ে আছে।এর পর রয়েছে ফ্রান্স,জার্মানি,সুইজারল্যান্ড,অস্ট্রেলিয়া,ডেনমার্ক ইত্যাদি দেশ উইন্ড মিল ব্যবহার করে তড়িৎ উৎপাদন করছে।

সম্পর্কিত প্রশ্নগুচ্ছ

1 উত্তর
12 অক্টোবর 2021 "পড়াশোনা" বিভাগে জিজ্ঞাসা করেছেন Md. Redowan lslam
1 উত্তর
1 উত্তর
1 উত্তর
12 অক্টোবর 2021 "পড়াশোনা" বিভাগে জিজ্ঞাসা করেছেন Md. Redowan lslam
অ্যান্সগুরু বাংলা ভাষায় সমস্যা সমাধানের একটি অনলাইন কমিউনিটি। এখানে আপনি প্রশ্ন করতে পারবেন এবং অন্যদের প্রশ্নে উত্তর প্রদান করতে পারবেন ৷ আর অনলাইনে বিভিন্ন সমস্যার সমাধানের জন্য উন্মুক্ত তথ্যভাণ্ডার গড়ে তোলার কাজে অবদান রাখতে পারবেন ৷

1,381 টি প্রশ্ন

1,164 টি উত্তর

5 টি মন্তব্য

50,808 জন সদস্য

2 Online Users
1 Member 1 Guest
Online Members
Today Visits : 4065
Yesterday Visits : 9030
Total Visits : 337603
...