রসায়ন পরীক্ষাগারে ব্যবহৃত কতিপয় কয়েকটি যন্ত্রপাতি সম্পর্কে বর্ণনা করো? - অ্যান্সগুরু
71 বার প্রদর্শিত
"রসায়ন" বিভাগে করেছেন

এই প্রশ্নটির উত্তর দিতে দয়া করে প্রবেশ কিংবা নিবন্ধন করুন ।

1 উত্তর

0 পছন্দ 0 জনের অপছন্দ
করেছেন

বিজ্ঞানের ভিত্তি হচ্ছে পরীক্ষালব্ধ বিভিন্ন ফলাফল।এ সকল ফলাফলকে যুক্তিসঙ্গতভাবে ব্যাখ্যা করাই বিজ্ঞানীদের কাজ।বিজ্ঞানের একটি শাখা হচ্ছে রসায়ন।জীবন ও জীবিকার ওপর রসায়নের প্রভাব অনেক বেশি।রসায়ন একটি পরীক্ষাধর্মী বিজ্ঞান।পরীক্ষা না করে রসায়ন শিক্ষা দুঃসাধ্য।রসায়নের আলোচিত তত্ত্ব ও পদ্ধতি পরীক্ষা নিরীক্ষার জন্য ব্যবহারিক রসায়নের প্রয়োজন।রসায়নের পরীক্ষা যেমন ছাত্রছাত্রীদের আনন্দ দান করে,তেমনি তত্ত্বীয় পাঠ্যবিষয়কে বুঝতে ও মনে রাখতে সাহায্য করে।এছাড়া পুস্তকে যা যা পড়া হয়েছে,তা যেন গল্প নয়,বরঞ্চ বাস্ত সত্য,একথা উপলব্ধিতে সাহায্য করে।সুতরাং রসায়ন শিক্ষায় ব্যবহারিক রসায়নের গুরুত্ব অপরিসীম।


রসায়ন পরীক্ষাগারে ব্যবহৃত কতিপয় যন্ত্রপাতি:
(১) টেস্টটিউব (Test tube) বা পরীক্ষানল : এটা একদিক বন্ধ একটি পাতলা কাচের সরু নল।পরীক্ষানল ছোট বড় বিভিন্ন আকারের হতে পারে।সাধারণত 15-16 মিলিলিটার আয়তনের টেস্ট টিউবই বেশি ব্যবহৃত হয়।টেস্ট টিউবকে দাঁড় করিয়ে রাখার জন্য কাঠ নির্মিত সরল যন্ত্র ব্যবহৃত হয়।একে বলা হয় টেস্ট টিউব স্ট্যান্ড (test tube stand)।কাজ করার সময় তাতে টেস্ট টিউব ধরার জন্য যে যন্ত্র ব্যবহার করা হয়,তাকে টেস্ট টিউব ধারক (test tube holder) বলা হয়।

(২) বিকার (Beaker): বিকার কাচ নির্মিত এবং অনেকটা কাচের গ্লাসের মতো।বিকার বিভিন্ন মাপের হতে পারে।যেমন: 50,100,500 ও 1000 mL । সাধারণত বিকারের গায়ে তার ধারণ ক্ষমতা লেখা থাকে।

(৩) ফ্লস্ক (Flask): ফ্লাস্ক অনেকটা বোতলের মতো।পরীক্ষাগারে বিভিন্ন প্রকার তরল রাসায়নিক দ্রব্য রাখার জন্য ফ্লাস্ক ব্যবহৃত হয়।যে ফ্লাস্ক নিচে প্রশস্ত এবং ক্রমশ উপরে সরু,তাকে কনিক্যাল ফ্লাস্ক (conical flask বা erlenmeyer flask) বলা হয়।ফ্লাস্কের তলা চ্যাপ্টা হলে তাকে চ্যাপ্টাতলি ফ্লাস্ক (flat bottomed flask) বলে।আর ফ্লাস্কর তলা গোলাকার হলে তাকে গোলতলি ফ্লাস্ক (round bottomed flask) বলা হয়।ফ্লাস্কের সরু অংশে একটি পার্শ্ব নল থাকলে তাকে পাতন ফ্লাস্ক বলা হয়।তরল পদার্থের পাতন কার্যে এ ফ্লাস্ক ব্যবহৃত হয়।ফ্লাস্কের গায়ে সাধারণত ধারণ ক্ষমতা লেখা থাকে।

(৪) কর্ক (cork) বা ছিপি: বিশেষ গাছের অংশ থেকে কর্ক প্রস্তুত করা হয়।কর্কের পরিবর্তে রবার অথবা গ্লাস স্টপার (stopper) ব্যবহার করা যায়।পরীক্ষাগারে বিভিন্ন ফ্লাস্ক ও অন্যান্য যন্ত্রপাতির মুখ বন্ধ করতে এগুলো ব্যবহৃত হয়।

(৫) কর্ক বোরার (cork borer) বা ছিপি ছিদ্রকারক: কর্কের মধ্যে সরু কাচনল ঢুকানোর জন্য এর মাঝখান দিয়ে ছিদ্র করা প্রয়োজন হয়।কর্ক ছিদ্র করতে যে যন্ত্র ব্যবহৃত হয়,তাকে কর্ক বোরার বলে।এটা ফাঁপা এবং লোহ নির্মিত।বোরার বিভিন্ন ব্যাসবিশিষ্ট হয়।

(৬) পোর্সেলিন বেসিন (Porcelain Basin): এ বেসিনে সাধারণত তরল পদার্থ বাষ্পায়িত করা হয়ে থাকে।

(৭) ক্রুসিবল (Crucible): এটি ঢাকনাযুক্ত একটি খাড়া বাটি বিশেষ।উচ্চ তাপমাত্রায় কঠিন পদার্থকে শুষ্ক করার জন্য ক্রুসিবল ব্যবহৃত হয়।এটি চিনামাটি দ্বারা তৈরী।

(৮) মর্টার এবং পেসল (Mortar and pestle) বা খল ও মুষল: রাসায়নিক পদার্থ গুঁড়া করার জন্য অথবা একাধিক গুঁড়া জাতীয় পদার্থ মিশ্রিত করার জন্য মর্টার এবং পেসল ব্যবহৃত হয়।এটি সাধারণত চিনামাটির তৈরি হয়।

(৯) ফানেল (Funnel): তরল পদার্থ ঢালবার জন্য নিচে সরু নলবিশিষ্ট চোঙ ব্যবহৃত হয়।এটিই ফানেল।ফানেল সাধারণত বিভিন্ন প্রকার হয়ে থাকে।যেমন: সাধারণ ফানেল ও থিসল ফানেল।

(১০) উলফ বোতল (Woulf's Bottle): এটি একটি কাচের মোটা বোতল যার দুইটি সরু মুখ আছে।গ্যাস প্রস্তুত করতে এটা ব্যবহার করা হয়।আবিষ্কারকের নামানুসারে এ বোতলের নাম রাখা হয়েছে উলফ বোতল।

(১১) রিটর্ট (Retort) বা বকযন্ত্র: এটি গোলতলি ফ্লাস্কের মুখ থেকে বের হওয়া লম্বা সরু ঠোঁটবিশিষ্ট যন্ত্রের নাম বকযন্ত্র।নাইট্রিক এসিড প্রস্তুতকালে এ যন্ত্র ব্যবহৃত হয়।তরলকে বাষ্পে পরিণত করে পুনরায় তরল অবস্থায় পরিণত করতে এটি ব্যবহৃত হয়।

(১২) গ্যাস জার (Gas jar): উপর নিচে সমান ব্যাসবিশিষ্ট এক মুখ বন্ধ যন্ত্রই হলো গ্যাস জার।এটি পুরু কাচের হয়।এটি পরীক্ষাগারে গ্যাস সংগ্রহ করতে ব্যবহৃত হয়ে থাকে।

(১৩) গ্যাস দ্রোণি (Pneumatic trough): গ্যাস সংগ্রহের সময় জারে পানি ভর্তি করে অন্য যে একটি পানি ভর্তি পাত্রের মধ্যে উপুড় করে রাখা হয়,সে পানির পাত্রটিই হল গ্যাস দ্রোণি।

(১৪) ত্রিপদী স্ট্যান্ড (Tripod Stand): মূলত ত্রিপদী স্ট্যান্ডের তিনটি পা থাকে।এর উপরিস্থল তারজালি দ্বারা ঢাকা থাকে এবং পাত্র বসানো যায়।আবার যেকোনো প্রয়োজনে নিচ থেকে বার্নারের সাহায্যে তাপ দেয়া যায়।

(১৫) রিং স্ট্যান্ড (Ring Stand): এটি দ্বারা ফ্লাস্ক আটকিয়ে রাখা যায় এবং যেকোনো প্রয়োজনে নিচ থেকে তাপ দেয়া যায়।

(১৬) বুনসেন বার্নার (Bunsen burner) বা বুনসেন দীপ : পরীক্ষা কার্যে তাপ সৃষ্টির জন্য এটি ব্যবহৃত হয়।পরীক্ষাগারে সাধারণত বুনসেন বার্নারে প্রাকৃতিক গ্যাস ও বাতাসের মিশ্রণ জ্বালানি হিসেবে ব্যবহৃত হয়।গ্যাস সরবরাহের ব্যবস্থা না থাকলে স্পিরিট ল্যাম্প (spirit lamp) ব্যবহৃত হয়।এটি কুপি বাতির মতো,তবে তেলের পরিবর্তে স্পিরিট ব্যবহৃত হয়।

(১৭) ওয়াশ বোতল (wash bottle): এটি কাচ নির্মিত ফ্লাস্ক।ফ্লাস্কের মুখে ছাপি দিয়ে দুটি নল ঢুকানো থাকে।একটি নল দিয়ে ফুঁ দিতে হয় এবং অপরটি দিয়ে ভিতরের পানি বের হয়ে থাকে।এ বোতলের পানি দিয়ে যন্ত্রপাতি ধৌত করা হয় বলে একে ওয়াশ বোতল বলে।

(১৮) মেজারিং সিলিন্ডার (Measuring Cylinder): এটি একটি দাগকাটা একদিক বন্ধ কাচের নল।এর দ্বারা তরল পদার্থের আয়তন মাপা হয়।এতে মিলিলিটারে দাগ কাটা থাকে।

(১৯) পিপেট (pitette): এটি দাগকাটা সরু কাচের নল।কখনও এক মাথা সরু,অন্য মাথা চোকা এবং মাঝখানে মোটা হয়।সুনির্দিষ্ট পরিমাণ তরল পদার্থ মাপার জন্য এটি ব্যবহৃত হয়।

(২০) ব্যুরেট (burette): এটিও মিলিলিটারে দাগকাটা নলবিশেষ।এর নিচের মাথা সরু ও স্টপকক (stopcock) যুক্ত।ফোঁটা ফোঁটা তরল পদার্থ যোগ করা ও মাপার কাজে এটি ব্যবহৃত হয়ে থাকে।সাধারণত 50 mL বা 25 mL ধারণ ক্ষমতার ব্যুরেট ব্যবহৃত হয়।

(২১) শীতক (condenser): এটি মূলত সম অক্ষবিশিষ্ট দুইটি কাচনল।বাইরের নলের উভয় প্রান্ত ভিতরের নলের সাথে সিল করা থাকে এবং বাইরের নলের উভয় প্রান্তের প্রায় কাছাকাছি স্থানে একটি করে নির্গম নল যুক্ত থাকে।নিচের নির্গম নল দিয়ে ঠান্ডা পানি ভিতরে প্রবেশ করে এবং উপরের নির্গম নল দিয়ে বেরিয়ে যায়।এতে বাষ্পীভূত কোনো পদার্থ পুনরায় তরলে রূপান্তরিত হয়।

সম্পর্কিত প্রশ্নগুচ্ছ

1 উত্তর
1 উত্তর
অ্যান্সগুরু বাংলা ভাষায় সমস্যা সমাধানের একটি অনলাইন কমিউনিটি। এখানে আপনি প্রশ্ন করতে পারবেন এবং অন্যদের প্রশ্নে উত্তর প্রদান করতে পারবেন ৷ আর অনলাইনে বিভিন্ন সমস্যার সমাধানের জন্য উন্মুক্ত তথ্যভাণ্ডার গড়ে তোলার কাজে অবদান রাখতে পারবেন ৷

1,381 টি প্রশ্ন

1,164 টি উত্তর

5 টি মন্তব্য

50,875 জন সদস্য

3 Online Users
1 Member 2 Guest
Online Members
Today Visits : 4204
Yesterday Visits : 9030
Total Visits : 337742
...