বিভিন্ন ফুলের রং নিষ্কাশন এবং অম্ল ও ক্ষারে তাদের বিক্রিয়া পরীক্ষণ? - অ্যান্সগুরু
11 বার প্রদর্শিত
"রসায়ন" বিভাগে করেছেন

এই প্রশ্নটির উত্তর দিতে দয়া করে প্রবেশ কিংবা নিবন্ধন করুন ।

1 উত্তর

0 পছন্দ 0 জনের অপছন্দ
করেছেন

শিরোনাম: বিভিন্ন ফুলের রং নিষ্কাশন এবং অম্ল ও ক্ষারে তাদের বিক্রিয়া পরীক্ষণ।

উদ্দেশ্য: (ক) কৃষ্ণচূড়া,জবা ও গোলাপ ফুল এবং কাঁচা হলুদের রং নিষ্কাশন করা।
(খ) নিষ্কাশিত রং লেবুর রস ও চুনের পানিতে পরীক্ষা করা।

সতর্কতা নির্দেশ: পরীক্ষাগারে সব সময় এপ্রন ও নিরাপদ চশমা ব্যবহার করবে।

যন্ত্রপাতি: মর্টার,বিকার,পরীক্ষানল ও পানি গাহ।

রাসায়নিক দ্রব্য: লিটমাস (লিটমাস দ্রবণরূপে),লেবুর রস,চুনের পানি ও ফুল।

তত্ত্ব: ফুলের রং হচ্ছে এক বা একাধিক জৈব যৌগ।ফুলের উপর পানিতে অদ্রবণীয় যৌগের আবরণ থাকায় ফুল পানিতে ডুবালেই তার রং নিষ্কাশিত হয় না।ফুলকে বেটে মিহি করলে দ্রাবক ফুলের সমগ্র অংশের সংস্পর্শে আসতে পারে,তখনই ফুলের রং নিষ্কাশিত হতে পারে।অনেক ফুলের রং পানি দ্বারা নিষ্কাশিত হলেও ইথানল,অ্যাসিডে প্রভৃতি জৈব দ্রাবক অধিকতর ভালো নিষ্কাশনকারী।বিভিন্ন ফুলের রঙিন পদার্থ ভিন্ন ভিন্ন যোগ,এরা নানা ধর্মবিশিষ্ট হতে পারে। লিটমাসের সাহায্যে এদের অম্লতা,ক্ষারতা বা নিরপেক্ষতা পরীক্ষা করা যায়।যদি নিষ্কাশিত যৌগ লিটমাসকে নীল করে,তবে তা ক্ষারীয়; যদি নীল লিটমাসকে লাল করে,তবে তা অম্লীয় এবং যদি কোনো ধরনের পরিবর্তন না করে,তবে তা নিরপেক্ষ।এখানে লিটমাস নির্দেশকের কাজ করছে।লিটমাসের পরিবর্তে ফুল নিষ্কাশিত দ্রবণগুলোও নির্দেশক হিসেবে ব্যবহার করা যেতে পারে।অম্লধর্মী লেবুর রস ও ক্ষারধর্মী চুনের সাহায্যে পরীক্ষা করে দেখানো হল।

কর্মপদ্ধতি: যে কোনো এক জাত ফুলে 5-6 টি পাপড়ি নাও।মর্টারে তা পিষে মিহি কর।অতঃপর তা একটি বিকারে নিয়ে 25-30 মিলিলিটার পানি যোগ কর এবং কাচ দণ্ড নিয়ে ভালো করে নাড়।একটি বড় পাত্রে কিছূ গরম পানি নিয়ে বিকারটি তাতে বসিয়ে নাড়লে আরও ভালো হয়। 2-1 মিনিট নাড়াবার পরে পরিস্রাবণ কর।পরিস্রুত হচ্ছে নিষ্কাশিত রঙের দ্রবণ।এ নিষ্কাশিত দ্রবণ নিয়ে পরীক্ষাগুলো করো।

পরীক্ষা:
১। পানিতে নিষ্কাশিত কৃষ্ণচূড়া ফুলের হলুদ রঙের এক অংশে কয়েক ফোঁটা লেবুর রস দেয়া হল।
২। অন্য অংশে কয়েক ফোঁটা চুনের পানি মিশানো হল।
৩। পানিতে নিষ্কাশিত জবা ফুলের লাল রঙের এক অংশে কয়েক ফোঁটা লেবুর রস দেয়া হল।
৪। অন্য অংশে কয়েক ফোঁটা চুনের পানি মিশানো হল।
৫। পানিতে নিষ্কাশিত গোলাপ ফুলের খয়েরি রঙের এক অংশে কয়েক ফোঁটা লেবুর রস এবং অন্য অংশে কয়েক ফোঁটা চুনের পানি দেয়া হল।
৬। সিদ্ধ পানিতে নিষ্কাশিত কাঁচা হলুদের হলুদ রঙের এক অংশে কয়েক ফোঁটা লেবুর রস এবং অন্য অংশে কয়েক ফোঁটা চুনের পানি মেশানো হলো।

পর্যবেক্ষণ: ক) দ্রবণ লাল রং ধারণ করল।
খ) দ্রবণ হলুদাভ সবুজ রং ধারণ করল।
গ) দ্রবণ গাঢ় লাল রং ধারণ করল।
ঘ) দ্রবণ গাঢ় সবুজ রং ধারণ করল।
ঙ) দ্রবণ গাঢ় গোলাপি রং ধারণ করল
চ) দ্রবণ প্রথম কয়েক ফোঁটা গাঢ় ক্ষারে সবুজ রং এবং অতিরিক্ত ক্ষারে কমলা রং ধারণ করল।
ছ) দ্রবণ প্রায় বর্ণহীন হয়ে গেল।
জ) দ্রবণ ইট লাল রং ধারণ করল।

সিধান্ত: ১। এ সমস্ত রং নিরপেক্ষ,অম্লীয় এবং ক্ষারীয় অবস্থায় বিভিন্ন রং প্রদর্শন করে।
২। অতএব লিটমাসের ন্যায় এ রংগুলো নির্দেশক হিসেবে ব্যবহার করা যেতে পারে।


নিষ্কাশিত পানির বেশি অংশ বিকারে লও এবং বিকারটি পানিগাহে রেখে পানি বাষ্পীভূত কর।নিষ্কাশিত রং বিকারে নিয়ে শুষ্ক অবস্থায় পড়ে থাকবে।একে একটি কাচের নমুনা শিশিতে ভরে শিক্ষকের নিকট জমা দাও।এ সমস্ত প্রাকৃতিক ও কৃত্রিম রং আমরা বহুবিধ কাজে ব্যবহার করি।যেমন: কাপড় রাঙানোর কাজে,অনেক টিনজাত রাঙানোর কাজে এগুলো ব্যবহৃত হয়।

সম্পর্কিত প্রশ্নগুচ্ছ

1 উত্তর
1 উত্তর
অ্যান্সগুরু বাংলা ভাষায় সমস্যা সমাধানের একটি অনলাইন কমিউনিটি। এখানে আপনি প্রশ্ন করতে পারবেন এবং অন্যদের প্রশ্নে উত্তর প্রদান করতে পারবেন ৷ আর অনলাইনে বিভিন্ন সমস্যার সমাধানের জন্য উন্মুক্ত তথ্যভাণ্ডার গড়ে তোলার কাজে অবদান রাখতে পারবেন ৷

1,381 টি প্রশ্ন

1,164 টি উত্তর

5 টি মন্তব্য

50,855 জন সদস্য

6 Online Users
4 Member 2 Guest
Today Visits : 4161
Yesterday Visits : 9030
Total Visits : 337699
...