বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি কি? বৈজ্ঞানিক গবেষণা পদ্ধতির বৈশিষ্ট্য আলোচনা কর? - অ্যান্সগুরু
29 বার প্রদর্শিত
"পড়াশোনা" বিভাগে করেছেন

এই প্রশ্নটির উত্তর দিতে দয়া করে প্রবেশ কিংবা নিবন্ধন করুন ।

1 উত্তর

0 পছন্দ 0 জনের অপছন্দ
করেছেন
    ভুমিকা ঃ বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি যে কোন ক্ষেত্রে গবেষণারজন্য সর্বজনস্বীকৃত ও গৃহীত। সমাজবিজ্ঞানে এ পদ্ধতির অনুশীলন প্রচেষ্টা বলতে গেলে এর প্রতিষ্ঠাতা অগাস্ট কোং। তিনি সমাজবিজ্ঞানকে প্রাকৃতিক বিজ্ঞান হিসেবে দাড় করানোর প্রচেষ্টা চালান। তার সে প্রচেষ্টা সম্পুর্ণ বৃথা যায় নি। আজ আমরা সমাজবিজ্ঞান গবেষণার ক্ষেত্রে প্রাকৃতিক বিজ্ঞানের পদ্ধতি অনুশীলনের প্রায় কাছাকাছি এসে গেছি।  বিষয়টির সুবিস্তৃত আলোচনার প্রাক্কালে বিজ্ঞান কি তা জেনে নিলে ভালো হয়। 

বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি ঃ

বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি বলতে আমরা উপরের আলোচিত বিষয়াবর্নিত পদ্ধতিকে বুঝে থাকি। এ পদ্ধতির সংজ্ঞা বিজ্ঞানিগন বিভিন্ন ভাবে প্রদানে সচেষ্ট হয়েছেন। যেমন 

বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি হল তথ্যরাজির এক ধারাবাহিক পর্যবেক্ষণ, শ্রেণীকরন।

ওয়ালিস ও রবার্ট বলেছেন, একদিকে হতে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি হল অলীক, কেননা এখানে কোন আনুষ্ঠানিক বা অনানুষ্ঠানিক প্রত্রুিয়া নেই যা একজন বিজ্ঞানীকে বলতে পারে কিভাবে শুরু করতে হবে ; অতঃপর কি করতে হবে, কিংবা সিদ্ধান্ত নিতে হবে। 

এনসাক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকায়ঃ।বলা হয়েছে যে, এটি একটি সমষ্টিক পদবাচ্য যা এমন সব প্রত্রুিয়ার প্রতি ইঙ্গিত করে যার মাধ্যমে বিভিন্ন বিজ্ঞান গড়ে উঠে। 

মি.বারী এফ. এন্ডারসন(১৯৬৬)বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির সংজ্ঞা দিতে গিয়ে বলেছেন, বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিকে ঘটনার বর্ণনা ও ব্যাখ্যা দানের জন্য নিম্নলিখিত বিধিমালা হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা যায়ঃক.কার্যোপযোগী সংজ্ঞায়ন,  খ. সর্বজনীনতা, গ. নিয়ন্ত্রিত পর্যবেক্ষণ, ঘ. পুনঃপুন পর্যবেক্ষণ, ঙ. নিশ্চিতকরন ও পরিশেষে বলা যায় যে, বিজ্ঞানী যে যৌক্তিক পদ্ধতিতে সামাজিক ও প্রাকৃতিক বিষয়াবলির বর্ননা, ব্যাখ্যা ও বিশ্লেষণের মাধ্যমে সাধারণ তত্ত্ব প্রতিষ্ঠায় সচেষ্ট হন তাকে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি বলে। 

বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির বৈশিষ্ট্যঃ বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি মুলত প্রাকৃতিক ও সামাজিক বিষয়কে যৌক্তিক ও সুনির্দিষ্টভাবে বিশ্লেষণ করে থাকে। বিশ্লেষণের ক্ষেত্রে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি নিদিষ্ট বিষয় বা অবস্থাকে পুঙ্খানুপুঙ্খরুপে বর্ননা ও ব্যাখ্যা করে থাকে। আর বর্ননার সময় বিষয়টির রুপ ও অবস্থানগত বিবৃতিও প্রদান করা হয়। পক্ষান্তরে, বিষয়টির পারিপার্শ্বিকতা ও পারম্পর্যের কার্যকরন সম্পর্কে সুস্পষ্টভাবে তুলে ধরা হয় ব্যাখ্যাকরনের মাধ্যমে। আবার বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি মুলত সুসংবদ্ধ জ্ঞান প্রতিষ্ঠার জন্য পরিচালিত কিছুসংখ্যক নীতির সমষ্টি। এ নীতি গুলো বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিকে তার নিজস্ব বৈশিষ্ট্য বজায় রাখতে সক্ষম করে তোলে।  নিম্নে সংক্ষেপে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির বৈশিষ্ট্যসমুহ আলোচনা করা হলঃ

১. কার্যোপযোগী সংজ্ঞা প্রদানঃ

বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে কোন বিশ্লেষণাধীন বিষয় বা অবস্থাকে এমন কার্যকরীভাবে সংজ্ঞায়ন করা হয়, যাতে করে তা পর্যবেক্ষন ও পরিমাণযোগ্য হয়ে উঠে। 

২. সার্বিকীকরনঃ এক্ষেত্রে বিষয় বা অবস্থার নিদিষ্ট কোন অংশের পরিবর্তে সার্বিক দিকটিকেই বিমূর্তভাবে তুলে ধরা হয়।  অথাত বিশেষ কোন সীমাবদ্ধ না রেখে বরং সাধারণে এর সত্যতা উপস্থাপন  করা  হয়৷ 

৩. নিয়ন্ত্রিত পর্যবেক্ষণঃ বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে সফল বিশ্লেষণাধীন বিষয় বা অবস্থার বিভিন্ন পরিবর্তন পর্যবেক্ষণের লক্ষ্যে বিষয়টিকে বিভিন্নভাবে নিয়ন্ত্রণের, মাধ্যমে প্রয়োগ করা হয়।  তাছাড়া এক্ষেত্রে সম্ভাব্য প্রভাব বিস্তারকারী আনুষঙ্গিক অবস্থাগুলোকে ও নিয়ন্ত্রণ করে নিষ্ক্রিয় করে রাখা হয় । 

৪. পরিমানঃ বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির সংজ্ঞানুযায়ী বিষয়ের পরিমাপ করতে সক্ষম।  আর পর্যবেক্ষণ করা বিষয়টিকে যখনই পরিমাপ করা যাবে,  তখন তাকে অধিক বিশ্বাসযোগ্য বলে ধরে নেওয়া হবে। 

৫. বাস্তবভিত্তিকঃ বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি যৌক্তিক, গতিশীল ও বাস্তবভিত্তিক। দরুন বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি বাস্তবভিত্তিক পরিক্ষা নিরীক্ষা করে থাকে। 

৬. ভবিষ্যদ্বানীকরনঃ যে কোন বিষয়, ঘটনা ও তার কার্যকরন সম্পর্কিত বস্তুনিষ্ঠ জ্ঞানের আলোকে এ বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির সাহায্য যথেষ্ট নির্ভুলভাবে ভবিষ্যদ্বানী করা হয়।  

৭. নিশ্চিতকরনঃ সকল বিজ্ঞানী পরীক্ষিত সিদ্ধান্তটি প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ বিভিন্ন উপায়ে ব্যাখ্যা করে এর সঠিকতা সম্পর্কে নিশ্চিত হতে চান। আর এক্ষেত্রে তিনি বিষয় সংশ্লিষ্ট প্রত্যাক্ষ ও পরোক্ষ অবস্থা মধ্যকার কার্যকরন সম্পর্কে যাচাইয়ের প্রয়াস পান। 

৮. উদ্দেশ্যমুখিতাঃ বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি সর্বদা একটি নিদিষ্ট লক্ষ্য বা উদ্দেশ্য নিয়ে কাজ করে এবং এ লক্ষ্য বা উদ্দেশ্য পুরনের জন্য সর্বদা তৎপর থাকে। 

৯. সঙ্গতি বিধানঃ বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির মাধ্যমে গৃহীত সিদ্ধান্ত যাতে করে সঙ্গতিপূর্ন হয় সেদিকে বিজ্ঞানী সর্বদা সচেষ্ট থাকেন। অথাত এ পদ্ধতির দ্বারা প্রাপ্ত সত্যের ব্যাখ্যা অভ্যন্তরীনভাবে সামঞ্জস্যপূর্ন এবং এর মাঝে যে কোন প্রকার দ্বন্দ্ব পতন বা উল্লম্ফন নেই বিজ্ঞানী তা নিশ্চিত করেন।

১০. মুল্যবোধের নিরপেক্ষতাঃ এ কথা সর্বজনবিদিত যে, বিজ্ঞান পক্ষপাতহীন ও মুল্যবোধ নিরপেক্ষ। আর যেহেতু এ বিজ্ঞানের আলোকে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি নির্ণীত, সেহেতু স্বাভাবিকভাবে এ পদ্ধতি মুল্যবোধ  নিরপেক্ষতা বজায় রাখে এবং ব্যাক্ত, দল ও সমষ্টির মুল্যবোধের অনুপ্রবেশ রোধে সচেষ্ট থাকে। 

উপসংহারঃ উপরিউক্ত আলোচনা হতে আমরা সমাজবিজ্ঞান গবেষণায় বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি অনুশীলনের মৌলিক দিকনির্দেশনা পেয়ে থাকি। এক্ষেত্রে কিছু সীমাবদ্ধতা থাকা সত্ত্বেও ব্যাপকভাবে সমাজবিজ্ঞান গবেষণায় বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিই সর্বাধিক অনুসৃত হচ্ছে।

সম্পর্কিত প্রশ্নগুচ্ছ

1 উত্তর
1 উত্তর
1 উত্তর
অ্যান্সগুরু বাংলা ভাষায় সমস্যা সমাধানের একটি অনলাইন কমিউনিটি। এখানে আপনি প্রশ্ন করতে পারবেন এবং অন্যদের প্রশ্নে উত্তর প্রদান করতে পারবেন ৷ আর অনলাইনে বিভিন্ন সমস্যার সমাধানের জন্য উন্মুক্ত তথ্যভাণ্ডার গড়ে তোলার কাজে অবদান রাখতে পারবেন ৷

1,381 টি প্রশ্ন

1,164 টি উত্তর

5 টি মন্তব্য

50,862 জন সদস্য

4 Online Users
2 Member 2 Guest
Online Members
Today Visits : 4172
Yesterday Visits : 9030
Total Visits : 337710
...