দক্ষিণ আরবের সাবিয়ান ও অন্যান্য রাষ্ট্রসমূহের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস কি? - অ্যান্সগুরু
16 বার প্রদর্শিত
"পড়াশোনা" বিভাগে করেছেন

এই প্রশ্নটির উত্তর দিতে দয়া করে প্রবেশ কিংবা নিবন্ধন করুন ।

1 উত্তর

0 পছন্দ 0 জনের অপছন্দ
করেছেন
দক্ষিণ আরবের সাবিয়ান ও অন্যান্য রাষ্ট্রসমূহের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস
সাবিয়ান রাজ্য: সাবিয়ানগণ ইয়েমেনে একটি রাজ্য স্থাপন করেন।এ রাজ্যের রাজধানী ছিল মা'রিব।তাদের বর্ণমালা ছিল সিনিয়াটিক।তারা সাবিয়ান ও মিনাই- উভয় ভাষাতেই কথা বলত।তাদের বর্ণমালার সাথে মিশরীয় বর্ণমালার সাদৃশ্য পরিলক্ষিত হয়।প্রাচীন মিশরবাসী তাদের মন্দিরসমূহে ব্যবহারের জন্য সাবিয়ান রাজ্যে উৎপাদিত বিখ্যাত সুগন্ধি দ্রব্যসমুহ আমদানি করত।

সাবিয়ানগণই ছিল আরব অধিবাসীদের মধ্যে প্রথম সভ্য জাতি।তারা সুদক্ষ নাবিক ও বণিক হিসেবে খ্যাত ছিল।লোহিত সাগরের মধ্য দিয়ে তারা 'বাব-আল-মানদার' হয়ে মধ্য মিশরের ওয়াদি আল হাম্মামাহ পর্যন্ত বাণিজ্যিক প্রয়োজনে যাতায়াত করত।স্থলপথে ইয়েমেন হতে মক্কা,পেট্টা,সিরিয়া,মিশর এবং মেসোপটেমিয়ায় গমনাগমনের পথও তাদের জানা ছিল।বাইবেলে বর্ণিত শেবা নগরে তাদের ছিল আদি আবাসস্থল।সাবিয়ানগণ খ্রিস্টপৃর্ব ৭৫০ হতে ১১৫ অব্দ পর্যন্ত রাজত্ব করেন।

ঐতিহাসিক মারিব বাঁধ নির্মাণ ছিল সাবিয়ানদের সর্বাপেক্ষা উজ্জ্বলতম কৃতিত্ব।মারিব নগর সমুদ্রপৃষ্ঠ হতে ৩৯০০ ফুট উঁচু স্থানে বিদ্যমান।কারো কারো মতে,৫৭০-৫৭১ খ্রিস্টাব্দে আবরাহার শাসনামলে (মতান্তরে মযায়ফিয়া নরপতির আমলে) এ বাঁধটি ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়।প্রথম যুগের সারবিয়ান শাসকদের উপাধি ছিল মুকাররিব।এ সময় সারবিয়ান শাসকগণ একাধারে ছিলে রাজা ও পুরোহিত।দ্বিতীয় সাবিয়ান যুগের সূত্রপাত ঘটে খ্রিস্টপৃর্ব ৬০০ অব্দ থেকে।এ সময় সাবিয়ান নৃপতিগণ 'মালকস্ববা' উপাধি গ্রহণ করে।তারা পৌরহিত্যের কার্যকলাপ থেকে নিজেদেরকে নিবৃত্ত রাখত।দ্বিতীয় সাবিয়ানগণই দক্ষিণ আরবের রাজবংশগুলোর মধ্যে ছিল সর্বাপেক্ষা শক্তিশালী ও সমৃদ্ধশালী।সে যুগের শিলালিপি,ভাস্কর্য ও স্থাপত্য শিল্প প্রভৃতি আজও দক্ষিণ আরব সভ্যতার স্বাক্ষর বহন করছে।

মিনাইয়ান রাজ্য:সাবিয়ানদের পাশাপাশি মিনাইয়ানগণও একটি রাজ্য প্রতিষ্টা করেছিল।নাজরান হাজরামাউতের মধ্যবর্তী অঞ্চলে এ রাজ্যটি বিদ্যমান ছিল।ইহার স্থায়িত্বকাল ছিল খ্রিষ্ট্রপূর্ব ১২০০ হতে ৬৫০ অব্দ পর্যন্ত।এ রাজ্যের রাজধানী কারনাওস (বর্তমান আরবি নাম মা'য়ীন বা ঝর্নাধারা) ১৮৭০ খ্রিস্টাব্দে হ্যালোভ নামক জৈনিক ঐতিহাসিক পরিদর্শন করেন।মিনাইয়ান রাজ্যের অধিবাসীদের ভাষা ও বর্ণমালা ছিল সাবিয়ানদের অনুরূপ।মূলার নামক জৈনিক প্রত্নতত্ত্ববিদ শিলালিপির পাঠোদ্ধার করে ২৬ জন মিনাইয়ান রাজার নাম আবিষ্কার করেছেন।কালক্রমে সাবিয়ানগণ মিনাইয়ানদেরকে পরাজিত করে প্রায় সমগ্র দক্ষিণ আরবে তাদের রাজ্য ও আধিপত্য বিস্তার করেন।


কাতাবান ও হাজরামাউত রাজ্য: মিনাইয়ান ও সাবিয়ান রাজ্যদ্বয় ছাড়াও ঐ অঞ্চলে কাতাবান ও হাজরামাউত নামক আরও দুটি রাজ্য গড়ে উঠেছিল।কাতাবান রাজ্যটি বর্তমানের আদান শহরের পূর্বদিকে বিদ্যমান ছিল।কাতাবানের রাজধানী ছিল তামনা (বর্তমান কুহলান)।এ রাজ্যটি খ্রিস্টপূর্ব ৪০০-৫০ অব্দ পর্যন্ত বিরাজমান ছিল।

হাজরামাউত রাজ্যটি বর্তমানের হাজরামাউত অঞ্চলে বিদ্যমান ছিল।এর রাজধানী ছিল সাবওয়াহ।এ রাজ্যটির স্থিতিকাল ছিল খ্রিস্টপূর্প ৫ম শতাব্দীর মধ্যভাগ থেকে ১৮ খ্রিস্টান শতাব্দীর শেষ ভাগ পর্যন্ত।

এ রাজ্য দুটো মাঝে মাঝে মিনাইয়ান ও সাবিয়ান রাজদ্বয়ের কর্তৃত্বাধীনে চলে যেত।যা হোক,রাজ্যে দুটি মাল-মসলার ব্যবসার জন্য এবং সুন্দর সুন্দর কারূকার্যখচিত দালানকোঠার জন্য সমসাময়িককালে প্রসিদ্ধি লাভ করেছিল।

হিমারীয় রাজ্য: সাবিয়ান এবং মিনাইয়াগণ হতে উদ্ভূত হিমারীয়গণ খ্রিস্টপূর্ব ১১৫ অব্দ হতে ৫২৫ খ্রিস্টব্দ পর্যন্ত দক্ষিণ আরবে রাজত্ব করেন।জাফর নামক স্থানে তারা রাজধানী স্থাপন করেছিল।তাদের নির্মিত বিভিন্ন প্রকার বাঁধ,কূপ ও সেচ ব্যবস্থার ধ্বংসাবশেষ হতে অনুমান করা হয় যে,হিমারীয় সভ্যতা ছিল কৃষিভিত্তিক।শহরবাসী হিমারীয়গণ যাযাবর বেদুঈদুনের আক্রমণ হতে রক্ষা পাবার উদ্দেশ্যে গুমদান নামক স্থানে একটি সুরক্ষিত দুর্গ নির্মাণ করে তথায় ২০ তলাবিশিষ্ট একটি বিল্ডিং তৈরি করেছিল।তাদের রাজ্যে প্রচলিত স্বর্ণ,রৌপ্য ও তাম্র মুদ্রায় একদিকে রাজার এবং অপর দিকে একটি ষাঁড় বা পেঁচার প্রতিকৃতি অঙ্কিত থাকত।হিমারীয়গণ হাজরামাউতসহ সমগ্র উপকূল ও লোহিত সাগরের তীরস্থ অঞ্চলসমূহ করতলগত করে।হিমারীয় নরপতিদের উপাধি ছিল 'তুব্বা'।

আবিসিনিয়ানগণ হিমারীয় রাজ্যটি দখল করে ৩৪০ হতে ৩৪৭ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত তথায় তাদের শাসন কায়েম রাখে।অতঃপর হিমারীয়গণ তাদের রাজ্য পুনরুদ্ধার করে দ্বিতীয় হিমারীয় রাজ্য প্রতিষ্ঠা করে ৫২৫ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত রাজত্ব করেন।এ সময় ইয়েমেনে সর্বপ্রথম খ্রিষ্টান ও ইহুদি ধর্ম বিস্তার লাভ করে।ফলে দক্ষিণ আরবের জনগণ চন্দ্র,সূর্য,গ্রহ-উপগ্রহের উপাসনা শুরু করে।আবিসিনিয়ানগণ পুনরায় হিমারীয় রাজ্যটি অধিকার করে (৫২৯-৫৭৫ খ্রিঃ) । এ সময় কুখ্যাত খ্রিস্টান রাজা আবরাহা নতুন রাজধানী সানাক মক্কার পবিত্র কাবাগৃহের প্রতিদ্বন্দ্বীস্বরূপ একটি প্রসিদ্ধ গীর্জা নির্মাণ করেন।তিনি বিখ্যাত মারিব বাঁধ ধ্বংস করে মহানবীর (স) জন্মের বছরে ৫৭০ (৫৭১) খ্রিস্টাব্দে একটি বিশাল হস্তীবাহিনীসহ কাবাগৃহের ধ্বংস সাধনে মক্কা অবরোধ করেন।কিন্তু দুর্ভাগ্যক্রমে ঝড়,শিলাবৃষ্টি এবং আবাবিল নামক এক জাতীয় ক্ষুদ্র পক্ষীর আক্রমণে তার হস্তীবহর ধ্বংসপ্রাপ্ত হয় এবং স্বয়ং আবরাহা বিপর্যস্ত হয়ে পলায়ন করেন।এ আক্রমনের বর্ষকে 'আমুল ফীল' বা হস্তীবর্ষ বলা হয়ে থাকে।

পারস্যের সম্রাট নওশেরওঁয়ানের সাহায্যে হিমারীয় বংশের জৈনিক সায়িফ ইবনে সিইয়াযান নামক বীর আবিসিনিয়ানদের ঘৃণিত শাসন হতে ইয়েমেনকে মুক্ত করেন।এর ফলে দক্ষিণ আরবে পারস্যের প্রভাব ও প্রতিপত্তি বিস্তার লাভ করতে থাকে।যা হোক,জৈনিক ঐতিহাসিকের মতে- প্রাক-ইসলামী যুগে আলবে খ্রিস্টান,ইহুদি ও পারসিকদের প্রভাব বিদ্যমান ছিল।কিন্তু এতদসত্ত্বেও আরব বেদুঈনদের উপর কোন বিদেশী সভ্যতা কিংবা ধর্ম আদৌ রেখাপাত করতে সক্ষম হয়নি।

সম্পর্কিত প্রশ্নগুচ্ছ

1 উত্তর
09 ডিসেম্বর 2021 "পড়াশোনা" বিভাগে জিজ্ঞাসা করেছেন Md. Redowan lslam
1 উত্তর
1 উত্তর
অ্যান্সগুরু বাংলা ভাষায় সমস্যা সমাধানের একটি অনলাইন কমিউনিটি। এখানে আপনি প্রশ্ন করতে পারবেন এবং অন্যদের প্রশ্নে উত্তর প্রদান করতে পারবেন ৷ আর অনলাইনে বিভিন্ন সমস্যার সমাধানের জন্য উন্মুক্ত তথ্যভাণ্ডার গড়ে তোলার কাজে অবদান রাখতে পারবেন ৷

1,381 টি প্রশ্ন

1,164 টি উত্তর

5 টি মন্তব্য

50,784 জন সদস্য

6 Online Users
4 Member 2 Guest
Today Visits : 4018
Yesterday Visits : 9030
Total Visits : 337556
...