শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বা বিদ্যালয়ের কার্যাবলি আলোচনা কর? - অ্যান্সগুরু
25 বার প্রদর্শিত
"পড়াশোনা" বিভাগে করেছেন

এই প্রশ্নটির উত্তর দিতে দয়া করে প্রবেশ কিংবা নিবন্ধন করুন ।

1 উত্তর

0 পছন্দ 0 জনের অপছন্দ
করেছেন
 ভুমিকাঃ সমাজবিজ্ঞানে শিক্ষা একটি প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিগনিত। পৃথিবীতে সবধরনের সমাজে শিক্ষাকে অন্যতম মৌলিক কর্মকাণ্ড বলে বিবেচনা করা হয়। শিক্ষা সুস্থ সমাজ জীবনের চালিকাশক্তি। আদিম সমাজের বর্বর জনগোষ্ঠী যখন বন্যাদশা পেরিয়ে হাতিয়ার ব্যবহার শিখে, তখন থেকে তাদের মধ্যে শিক্ষার আদর্শ ও উদ্দেশ্য তথা চিন্তাচেতনা ও বিবেকের উৎকর্ষতার সূচনা হয়। এ শিক্ষা দু ধরনের সূচনা করে। এ শিক্ষায় দু ধরনের তাৎপর্য রয়েছে। 

যথাঃ ব্যাক্তিগত ও সামাজিক। যে পদ্ধতিতে সমাজের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য যুগের পর যুগ চলতে থাকে তা প্রত্যেক মানবগোষ্ঠীতে এক একটি বিশেষ প্রতিষ্ঠানের রূপ গ্রহণ করে। মুলত একে শিক্ষামুলক প্রতিষ্ঠান বলে।

শিক্ষামুলক প্রতিষ্ঠানঃ শিক্ষা সমাজ জীবনের একটি অপরিহার্য উপাদান। যে প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে মানবশিশু একটি নিদিষ্ট বয়স পযন্ত আচার আচরণ, আদর্শ, অভ্যাস, বুদ্ধিবৃত্তিক পরিপূর্ণ বিকাশ সাধন করে তাকে শিক্ষামুলক প্রতিষ্ঠান বলে। অন্যভাবে বলা যায়, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হল এমন এক ধরনের প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, যার মাধ্যমে সমাজের সন্তান সন্ততিরা উপযুক্ত মুল্যবোধের উদ্বুদ্ধ হয়, তাদের আচার আচরণ, অভ্যাস ও সহজাত প্রবৃত্তি পরিশীলিত হয় এবং তারা আনন্দ বেদনার প্রকৃত অর্থ উপলব্ধি করতে পারে। এ শিক্ষা  প্রতিষ্ঠানের প্রদত্ত শিক্ষা গ্রহণের মাধ্যমে শিক্ষার্থীর দৃষ্টিভঙ্গি, আচার আচরণ ও অভ্যাস পরিমার্জিত হয়, যার মাধ্যমে সে ভবিষ্যতের চ্যালেন্জ সার্থকভাবে মোকাবিলা করতে পারে। 

শিক্ষামুলক প্রতিষ্ঠান বা বিদ্যালয়ের ভুমিকাঃ শিক্ষামুলক প্রতিষ্ঠান বা বিদ্যালয়ের প্রাথমিক ও সর্বপ্রথম কাজ হচ্ছে মানবশিশুকে শিক্ষাদান করে।  শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রাথমিক স্তরে মানবশিশু কিভাবে লিখতে, পড়তে হয় তা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের আর ও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব ও কর্তব্য রয়েছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে মানবশিশুর চরিত্র গঠন ও ব্যাক্তিত্বের উন্নতি সাধনের দায়িত্ব নিতে হয়। শিক্ষামুলক প্রতিষ্ঠান বা বিদ্যালয় কেবলমাত্র লেখাপড়া শিক্ষা দেওয়ার প্রতিষ্ঠান নয়, এটি পাঠ্যসূচির বাইরে অথাত,সামাজিক শিক্ষাদানের ও একটি প্রয়োজনীয় প্রতিষ্ঠান। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের একটা নিজস্ব পরিবেশ  আছে এবং এর কাজ হল শিশুকে এ পরিবেশের সাথে পরিচয় করে দেওয়া। এ পরিচয়ের মাধ্যমেই বৃহত্তর সমাজ জীবনের সাথে শিশুর পরিচয় ঘটে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নতুন পরিবেশে শিশুর মধ্যে নিজ ভাবনা জাগ্রত হয়; অপরের সাথে সক্রিয়ভাবে সহযোগিতার মাধ্যমে কিভাবে কাজ করতে হয় তা মানবশিশু শিক্ষা গ্রহণ করে। 

বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ডিউই শিক্ষামুলক প্রতিষ্ঠানের বা বিদ্যালয়ের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ কাজের কথা বলেছেন, যথাঃ

১. শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সে পরিবেশ সৃষ্টি করে, যার দ্বারা শিশুর মানসিক উন্নতি সাধিত হয়।

২. বিদ্যালয় বা শিক্ষামুলক প্রতিষ্ঠান একটি বৃহত্তর ও উচ্চতর পরিবেশ সৃষ্টি করে। 

৩. শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সে বিষয়গুলো থেকে পরিবেশকে মুক্ত রাখা যায়, যার দ্বারা শিশুর মানসিক উন্নতি ব্যাহত হয়। সমাজবিজ্ঞানী আর্নল্ড গ্রীন শিক্ষামুলক প্রতিষ্ঠানের কয়েকটি কার্যাবলির কথা বলেছেন।  যথাঃ

১. শিক্ষা প্রতিষ্ঠান মানবশিশুর এক প্রজন্ম থেকে অন্য প্রজন্মে তাদের নিজস্ব সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য হস্তান্তরিত করে থাকে। 

২. পরিবারে মানবশিশু বিভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি, আস্থা বিশ্বাস, আনুগত্য ও প্রথা পদ্ধতির সাথে    পরিচিত হয়৷ এসব দৃষ্টিভঙ্গির সংস্কার সাধনের জন্য শিশুকে উপযুক্ত শিক্ষা দেওয়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অপরিহার্য কাজ। 

৩. শিক্ষামুলক প্রতিষ্ঠানের আরেকটি কাজ হচ্ছে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে শিক্ষা গ্রহণ শেষে শিক্ষার্থী পরবর্তী জীবনে জীবিকা অর্জনের জন্য উৎপাদনমুলক কাজে দক্ষতা সৃষ্টি করা। 

দার্শনিক ম্যাকেন্জির মতে, শিশুর আত্মবিকাশের দায়িত্ব তার উপর ছেড়ে দেওয়ার প্রশ্ন আসে না, যে জনজীবনের মাঝে সে বেড়ে উঠবে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বই তার পরিচয় দেয়।  সে কারনে সমাজে যাদের সাথে সে মিলেমিশে থাকে তাদের ভাষা তাকে শিখতে হবে এবং এ ভাষার মধ্যেই নিহিত থাকবে সমাজের উদ্দেশ্য ও আদর্শ, আশা ও আকাঙ্ক্ষা। শিশুকে ধীরে ধীরে, ধাপে ধাপে এ শিক্ষা দিতে হবে এবং সহানুভূতি সাথে তার প্রয়োজন গুলো ও বিবেচনা করে দেখতে হবে। 

শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বা বিদ্যালয়ের দায়িত্ব সমাজের ঐতিহ্যের মধ্যে যা কিছু ভালো ও শ্রেয় তার সাথে শিশুকে পরিচয় করিয়ে দেওয়া।  ছোট ছোট গল্পের মাধ্যমে সুন্দর ভাবগুলো তাদের মনে জাগিয়ে তুলতে হবে।  যেসব নিয়মকানুন এসব ঐতিহ্যকে সুনির্দিষ্ট ও স্হায়ী করে তুলছে সেসব নিয়মকানুন সম্বন্ধে ও তাদের জ্ঞান দেওয়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কাজ। এভাবে পর্যায়ক্রমে শিশুকে পরিচয় করে তুলতে হবে তার চারপাশের পরিবেশের সাথে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকেই শিশুকে  প্রকৃতিকে জানতে শেখানোর মধ্যমেই তার মনকে বিকশিত করে তুলতে হবে।  এভাবে প্রকৃতিকে পর্যবেক্ষন করতে করতে শিশু চিন্তা করতে শিখবে। তার চিন্তাচেতনা থেকেই আসবে মানুষের জীবন ও ইতিহাসের জানার ইচ্ছা। 

উপসংহারঃ উপরিউক্ত আলোচনা প্রেক্ষিতে আমরা বলতে পারি যে, শিক্ষা সমাজের মৌলিক কার্যবলির অন্যতম। এ শিক্ষা সুস্থ সমাজ জীবনের চালিকাশক্তি। মুলত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হচ্ছে এমন এক  ধরনের প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, যার মাধ্যমে মানবশিশু যৌক্তিক ও মানসিক শক্তির বিকাশ ঘটায় এবং সে সমাজ জীবনে আবেগের বশবতী হয়ে কোন কাজ করার চেয়ে বিচার বিবেচনা করে কাজ করতে উদ্বুদ্ধ হয়। শিক্ষামুলক প্রতিষ্ঠানের প্রধান কার্যাবলি হল শিশুর জ্ঞান বৃদ্ধি ও বুদ্ধি উন্নত করা, দৃষ্টিশক্তিকে প্রখর, সামাজিক কর্মকুশলতাকে উন্নত করা এবং তাকে সুনাগরিক হতে শিক্ষা দেওয়া।

সম্পর্কিত প্রশ্নগুচ্ছ

1 উত্তর
1 উত্তর
1 উত্তর
অ্যান্সগুরু বাংলা ভাষায় সমস্যা সমাধানের একটি অনলাইন কমিউনিটি। এখানে আপনি প্রশ্ন করতে পারবেন এবং অন্যদের প্রশ্নে উত্তর প্রদান করতে পারবেন ৷ আর অনলাইনে বিভিন্ন সমস্যার সমাধানের জন্য উন্মুক্ত তথ্যভাণ্ডার গড়ে তোলার কাজে অবদান রাখতে পারবেন ৷

1,381 টি প্রশ্ন

1,164 টি উত্তর

5 টি মন্তব্য

50,663 জন সদস্য

7 Online Users
6 Member 1 Guest
Today Visits : 3756
Yesterday Visits : 9030
Total Visits : 337294
...