উত্তর এবং মধ্য আরবের রাষ্ট্রসমূহের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস কি? - অ্যান্সগুরু
13 বার প্রদর্শিত
"পড়াশোনা" বিভাগে করেছেন

এই প্রশ্নটির উত্তর দিতে দয়া করে প্রবেশ কিংবা নিবন্ধন করুন ।

1 উত্তর

0 পছন্দ 0 জনের অপছন্দ
করেছেন

উত্তর এবং মধ্য আরবের রাষ্ট্রসমূহের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস:  প্রাক-ইসলামী আরবে দক্ষিণ আরবের বিভিন্ন রাজ্যের ন্যায় উত্তর এবং মধ্য আরবেও কতিপয় ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র রাজ্যের উদ্ভব ঘটে। এ সকল রাজ্য ছিল সামরিক বৈশিষ্ট্য বিবর্জিত। প্রধানত এবং মূলত ব্যবসা-বাণিজ্যের ভিত্তিতেই এগুলাের অভ্যুত্থান ঘটে। 


নাবাতিয়ান রাজ্য: উত্তর আরবের রাজ্যগুলাের মধ্যে উল্লেখযােগ্য ছিল নাবাতিয়ান রাজ্য। এ রাজ্যের রাজধানী ছিল পেট্টা। খ্রিস্টপূর্ব ৬ষ্ঠ শতাব্দীর প্রথমার্ধে যাযাবর নাবাতিয়ানগণ ট্রান্স জর্ডান হতে উত্তর আরবে আগমন করে ইডােমাইটদের পরাজিত করে তাদের রাজ্য অধিকার করে। এ রাজ্যের রাজধানী পেট্টা ভূমধ্যসাগর হতে দক্ষিণ আরবের সবা পর্যন্ত বিস্তৃত বাণিজ্য পথের মধ্যস্থলে বিদ্যমান ছিল। ফলে বাণিজ্যকেন্দ্র হিসেবে পেট্টার গুরুত্ব ছিল অপরিসীম। খ্রিস্টের জন্মের সময় এ রাজ্য দামেক পর্যন্ত বিস্তৃত হয়ে পড়ে। এ রাজ্যের জনগণ আরবি ভাষায় কথা বললেও তাদের
সাহিত্যে এ্যারামাইক লিপির ব্যবহার পরিলক্ষিত হয়। তাদের বক্র হস্তলিপি তৃতীয় খ্রিস্টাব্দে পবিত্র কুরআন মজিদের ভাষার রূপ পরিগ্রহ করে। খ্রিস্টের আবির্ভাবকালে নাবাতিয়ান সভ্যতার চরম উৎকর্ষ ও বিকাশ সাধিত হয়। ১০৫ খ্রিস্টাব্দে রাজ্যটি রােমানদের করতলগত হয়। ১০৬ খ্রিস্টাব্দে ইহা একটি রােমান প্রদেশে পরিণত হয়। রােমান শাসনামলে পেট্রা সমসাময়িককালের অন্যতম সমৃদ্ধশালী নগরীতে পরিণত হয়েছিল।


পালমিরা রাজ্য : পালমিরা রাজ্যটি বিবাদমান পার্থিয়ান ও রোমান সামরাজ্যের মধ্যস্থলে বিদ্যমান থেকে নিরপেক্ষ নীতি অবলম্বন করে স্বীয় নিরাপত্তা ও স্বাধীনতা বজায় রাখতে তৎপর ছিল। এ রাজ্যর ভৌগোলিক অবস্থান, প্রচুর টাটকা ও খনিজ পানির সরবরাহ করার ক্ষমতা পালমিরাকে পূর্ব-পশ্চিম এবং উত্তর-দক্ষিণ বাণিজ্য পথের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত করেছিল।

আরবদের নিকট পালমিরা রাজ্যটি "তাদমুর' নামে অভিহিত হত। আরবগণ কর্তৃক কখন এ রাজ্যটি অধিকৃত হয়েছিল তার সঠিক ইতিহাস বলা দরহ কব্যাপার বটে । তবে ১৩০ খ্রিস্টাব্দ হতে ২৭২ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত সময়কালে ঘনবসতিপূর্ণ এ প্রাচীন রাজ্যটি উন্নতির চরম শীর্ষে আরোহণ করেছিল। ঐতিহাসিক হিডির ভাষায়"দ্বিতীয় ও তৃতীয় শতাব্দীতে এ রাজ্যের মরুভূমিতে বিদ্যমান রাজধানীটি নিকট-প্রাচ্যের অন্যতম সম্পদশালী শহরে পরিণত হয়েছিল"।

 In
the course of the second and third centuries of our era this desert metropolis became one of the
richest cities of the Near East. 

খ্রিস্টীয় প্রথম শতকে এ রাজ্যটি রােমানদের করতলগত হয়। তৃতীয় শতাব্দীর শুরুতে পালমিরা রাজ্য রােমান সম্রাটের প্রতি নামেমাত্র আনুগত্য প্রদর্শন করে শাসনতান্ত্রিক ক্ষেত্র স্বাধীনতা লাভ করে। পালমিরার উজায়নাহ নামক পরাক্রমশালী সম্রাট পাথিয়ানরাজ প্রথম শাহপুরের আক্রমণ প্রতিহত করেন। তিনি উত্তর আরব, সিরিয়া, এশিয়া মাইনর,মিশর, আর্মেনিয়া প্রভৃতি অঞ্চলে স্বীয় কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করেন। এভাবে পালমিরা রাজ্যের অধিপতি সমগ্র পশচিয এশিয়ার উপর আধিপত্য বিস্তার করলে তাঁকে এবং তার জ্যেষ্ট পুত্রকে হিম্স্-এ (সম্ভবত রোমান সম্রাটের দ্বারা) বিশ্বাসঘাতকতার আশ্রয় অবলম্বন করে হত্যা করা হয়। তাঁর (উজায়নাহ) সুযোগ্য স্ত্রী জেনােবিয়া সিংহাসনে আরাহণ করে রোম অধিকৃত আলেকজান্দ্রিয়া দখল করেন। তার স্ত্রী জেনােবিয়ার বীরিত্বে শঙ্কত হয়ে ২৭২ খ্রিস্টাব্দে রোমান সম্রাট অরেলিয়ান তাকে
যুদ্ধে পরাজিত করে পালমিরা রাজ্যের অস্তিত্বের বিলােপ সাধন করন।জাতিতে আরব হলও আরামাইক ভাষায় কথা বলত পালমিরানগণ অভ্যস্ত ছিল। তারা সৌরজগতর উপাসনা করত। গ্রীক, সিরিয়ান ও পার্থিয়ান সভ্যতার স্মিশ্রণে পালমিরান সভ্যতার উৎকর্ষ সাধিরিত হয়েছিল।

খাসসানি রাজ্য : মারিব বাঁধ ধ্বংসপ্রাপ্ত হলে দক্ষিণ আরবের একটি গোত্র আমর মুযায়ফিয়ার নেতৃত্বে উত্তর
আরবে গমন করে। মুযায়ফিয়ার প্ত্র যাফনাহ ইবনে আমর দামেশকর দক্ষিণ-পূর্বে খাসসানি রাজ্যেসবিশেষ উল্লেখযোগ্য। খাসসানি বংশের শেষ নরপতি ছিলেন জাবালা -বিন আইহাম। ৬৩৬ খ্রিস্টাব্দে তিনি ইয়ারমুরের যুদ্ধের পত্তন করেন। এ
রাজ্যটি হাওরান, বালকা, ফনিসিয়া, লিবানাম, প্যালেস্টাইন, প্রেমা এবং সিকুণা জেলার সমন্বয়ে গঠিত ছিল। খ্রিস্ট্রীয় সাহায্যে খাসসানি রাজ্য আরব বেদুঈনদের অগ্রগতি রোধ করার জন্য একটি নিরপেক্ষ রাজ্যে (Bufer state) পরিণত
খাসসানি রাজবংশে ষষ্ঠ শতাব্দীতে কয়েকজন শক্তিশালী শাসকের আবির্ভাব ঘটে। এ সকল শাসকের মধ্যে আল-হারিস এবং তৎপুত্র আল-মুনজীরের নাম রােমান সম্রাট হিরারিয়াসের পক্ষ মুসলমানদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে অংশ গ্রহণ
করেন। মুসলমানেরা যুদ্ধে জয়লাভ করলে তিনি ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন। ঘটনাচক্রে খলিফা ওমরের বিচারে তাকে শাসিত
প্রদান করা হলে তিনি ইসলাম ধর্ম ত্যাগ করে পুনরায় মুসলমানদের বিরুদ্ধে অস্ত্র ধারণ করেন। ৬১৩-১৪ খিস্টাব্দে
সাসানীয় বংশের শাসক খসরু পারভেজ জেরুজালেম ও দামেস্ক আধিকার করলে খাসসানি রাজবংশের শাসনের পরিসমান্তি
ঘটে।

মুয়াল্লাকা কবি লোবিদ, নাবিনা এবং মহানবীর (সঃ) রাজকবি হাসান বিন সাবিত খাসসানি বংশের কবি ছিলেন।
খাসসানি শাসকদের দরবার জাঁকজমকপূর্ণ ছিল। তাদের দরবারে ব্যাবিলনীয়, গ্রীক এবং বিভিন্ন দেশের গায়ক-গায়িকা ও
বাদ্যকারের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। খাসসানি আমলর সভ্যাতা আরব সিরিয়ান ও গ্রীক সভ্যতার সংমিশ্রণে গড়ে উঠেছিল।
লাখমিদ বংশ ও খ্রিস্টীয় তৃতীয় শততাব্দীর শরুতে ইয়েমেনের তানথ গোত্র আরবের উত্তর-পূর্ব সীমান্তে অর্থাৎ দজলা-
ফোরাত (টাইগ্রিস ও ইউফ্রেটিস) উপত্যকায় আগমন করে প্রথমে তাবতে বসবাস করা শুরু করে। পরবর্তীকালে প্রচান
ব্যাবিলনের সন্নিকটে কুফার ৩ মাইল দক্ষিণে অবস্থিত আলহিরায় স্থায়ীভাবে তারা বসতি স্থাপন করে। অতঃপর লাখমিদ
বংশীয় বীর আমর-বিন-হাদী এখানে একটি সমৃদ্ধরশালী রাজ্য স্থাপন করেন। এ রাজ্যের রাজধানী ছিল হিরা। লাখমিদ
বংশীয় নরপতিগণ এখানে সপ্তম শতকের শেষভাগ পর্যন্ত তাদের আধিপত্য অক্ষণ রাখতে সক্ষম হন। লাখমিদদের প্রতিষ্থিত
হিরারাজ্যে পারসিকদের প্রভাব বিদ্যমান ছিল।
লাখমিদ বংশে সর্বমোেট ২০ জন নরপতি ছিলেন বলে ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়। নরপতিগণের মধ্যে ইমরুল কায়সের
(৩২৮ খ্রিঃ) নাম বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। তাঁরই পুত্র নুমান পারস্য সম্রাট বাহরাম গোরের জন্য বিখ্যাত আল-খাওয়ার-
নাক নামক একটি অপূর্ব সুন্দর দুর্গ ও রাজপ্রাসাদ নির্মাণ করে ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে রয়েছে। আমর-বিন হিন্দ
৫৫৪-৫৬৯ খ্রিঃ) নামক জনৈক নরপতি স্বয়ং একজন কাব্যরসিক ব্যক্তি ছিলেন। বিখ্যাত মুয়াল্লাকা কবি তারাকা-বিন
আবদ, হারিছ-বিন-হিল্লীযা এবং আমরু-বিন-কুলছুম তাঁর রাজ দরবার অলংকৃত করেন। আমরের মাতা হিন্দ খ্রিস্টান ছিলেন
বলে লাখমিদদের রাজ্যে সহজেই খ্রিস্টধর্ প্রবর্তিত হয়। লাখমিদ বংশের শাসনের পরিসমাণ্তি ঘটে তৃতীয় নমান-আব
কাবুসের আমলে (৫৮০-৬০২ খ্রিঃ) । লাখমিদগণ আরবি ভাষায় কথা বললেও তাদের শিক্ষার বাহন ছিল সিরিয়াক ভাষা। এ
বংশের রাজতুকালে আরব উপদ্বীপে পার্সিয়ান সংস্কৃতির অনুপ্রবেশ ঘটে
কিন্দা রাজ্য ও দক্ষিণ আরবের ইয়েমেন অgল হতে আগমন করে কিন্দা গােত্র মধ্য আরবে একটি বাজা স্থাপন
করেন। পঞ্ুম শতাব্ীর মাঝামাঝি এ বংশের উদ্ভব ঘটে। দক্ষিণ আরবের শেষ তুববাদের সাথে এদের সমফলর্ক ছিল ১ এ
বংশের প্রতিষ্ঠাতা হুযর (উপাধি আকিল আর মুরার) ছিলেন হিমারীয় হাসান ইবৃনে -তুব্বার বৈমাত্রেয় ভাতা। হযাব সলিক
(রাজা) উপাধি ধারণ করেন। তাঁর উত্তরাধিকারী ছিলেন মালিক আমর।

এ বংশের সর্বশ্রেষ্ঠ শাসক এবং আমরের উত্তরাধিকারী আল-হারিস পারস্য সম্রাট কুবাদের মৃত্যুর কিছুকালের জন্য
আল-হিরা অধিকার করেন (৫২৯ থ্রিঃ)। তিনি লাখমিদ শাসক তৃতীয় আল-মুন্দির কর্তৃক নিহত হন। আল-হারিস বাগদাদের
৪০ মাইল উত্তর-পশ্চিমে অবস্থিত ইউফ্রেটিস নদী তীরে অবস্থিত আনবার শহরে বসবাস করতেন। সর্বশ্রেষ্ঠ মুয়াল্লাকা কাব
ইমরুল কায়িস কিন্দা রাজ্যের সর্বশেষ রাজপুত্র ছিলেন। পরবর্তীকালে উত্তরাধিকারীদের মধ্যে ক্ষমতা অধিকারের দ্বন্দু ও
গহবিবাদ দেখা দিলে কিন্দার সংহতি বিনষ্ট হয় এবং কালক্রমে উহা হিরারাজ্যভুক্তু হয়ে যায়।
যা হােক, ইমরুল কায়েস পিতৃরাজ্য পুনরুদ্ধারের জন্য সাহায্য লাভর আশায় কনস্টান্টিনোপল সম্রাট
কনসটেনটাইনের নিকট গমন করেন। কিন্তু প্রত্যাবর্তনকালে আংকারার সন্নিকটে বিষ প্রয়াগে ৫৪০ খ্রিস্টাব্দে নিহত হন।
এ রাজ্যের গুরুত্ব এ কারণেই কি, তারাই (কিন্দাগণ) সর্বপ্রথম মধ্য অআরবে গোত্রবিভ্ক্ত আরবদেরকে একতার
বন্ধনে আবদ্ধ করে একটি রাজ্য স্থাপন করার পরিকল্পনা গ্রহণ করেন।

সম্পর্কিত প্রশ্নগুচ্ছ

1 উত্তর
09 ডিসেম্বর 2021 "পড়াশোনা" বিভাগে জিজ্ঞাসা করেছেন Md. Redowan lslam
1 উত্তর
27 নভেম্বর 2021 "পড়াশোনা" বিভাগে জিজ্ঞাসা করেছেন Md. Redowan lslam
অ্যান্সগুরু বাংলা ভাষায় সমস্যা সমাধানের একটি অনলাইন কমিউনিটি। এখানে আপনি প্রশ্ন করতে পারবেন এবং অন্যদের প্রশ্নে উত্তর প্রদান করতে পারবেন ৷ আর অনলাইনে বিভিন্ন সমস্যার সমাধানের জন্য উন্মুক্ত তথ্যভাণ্ডার গড়ে তোলার কাজে অবদান রাখতে পারবেন ৷

1,381 টি প্রশ্ন

1,164 টি উত্তর

5 টি মন্তব্য

50,653 জন সদস্য

6 Online Users
4 Member 2 Guest
Today Visits : 3739
Yesterday Visits : 9030
Total Visits : 337277
...