সভ্যতা বিকাশের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস কি? - অ্যান্সগুরু
24 বার প্রদর্শিত
"পড়াশোনা" বিভাগে করেছেন
পূনঃরায় খোলা করেছেন

এই প্রশ্নটির উত্তর দিতে দয়া করে প্রবেশ কিংবা নিবন্ধন করুন ।

1 উত্তর

0 পছন্দ 0 জনের অপছন্দ
করেছেন
সম্পাদিত করেছেন
সভ্যতা ও কৃষ্ঠি : বিশ্বের ইতিহাস রচিত হয়েছে বিভিন কষ্টির ক্রমবিকাশের ঘর্টনাবলির সমফ্টির উপর করে। বিশ্ববিখ্যাত ব্রিটিশ ঐতিহাসিক আরনল্ড টযেনবির মতেমনব ইতিহাসের বিভিন্ন স্তরে বিভিন্ন অঞ্চলে থাকে। বিশেষ বিশেষ কৃষির উদ্ভব ঘটেছিল তাকেই সভ্যাতা বল হয়। কষিটের সমন্ময়ে সভ্যতা গড় ওঠে। কৃষ্ট অপেক্ষা সভ্যতার অর্থ ব্যাপক । প্রথ্যাত ঐরতিহাসিক টয়েনবি বলেন ও সভ্যাতাব বিকাশ মানষের উন্নততর দৈহিক গঠন কিংবা ভীগোলিক পরিবেশের জন্য ঘটেনি। প্রকৃতপক্ষে তা এক একট বিশেষ অসবিধে ও প্রতিবন্ধকতার মোকাবিলা করে অগ্রসর হবার ফলেই ঘটেছে।" তিনি বলেন "প্রাচীন মিসরীয় সভ্য্তার করমবিকাশ ঘটেছিল নীলনদের উপত্যকায় জঙ্গাল ও জলাভূমি আকাণ ভূভাগকে মানুষের ব্যবহারোপযাগী করতে পারার কারণেই। টুয়েনবি আবারাে বলেন ও "এমনিভাবে ক্রীট ও ঈজিয়ান সাগরের দ্বীপগুলোেতে যে সভ্যতার বিকাশ ঘটছিল তার মুলেও ছিল সাগরের চ্যালেঞ্জ। আসলে চ্যালেঞ্জ এবং এর মােকাবিলা করা-এ দুটো বিপরীত শক্তির পরসপরের মধ্যে সংঘাত ও সমঝেতার ফলে সভ্যতার বিকাশ ঘটেছিল এবং ঘটছে। এতদ্বাতীত সভ্যতা সৃষ্টিধর্মী প্রতিভাবান ব্যক্তিবর্গের সাধনার ফলেই গ্রগতি লাভ করে থাকে। ব্যবস্থা এবং এর সাথে লিখন পদ্ধতি, আইন, সরকার, ব্যবসা এবং ধর্ম সফপর্কীয় মার্জিত ধারণার ন্যায় কর্মকাওও সম্পক্ত। " অন্য কথায়, মানবজীবনের সকল দিক সামাজিক, অর্থনৈতিক, ধর্মীয়, সাংস্কৃতিক প্রভৃতি সবকিছুই হচ্ছে সভ্যতার অন্उর্ভুক্ত। বিখ্যাত পণ্তিত হেগেল, স্পেংলার, ডঃ বুদ্ধ প্রকাশ, ইবনে খালদুন প্রমুখ সভ্যতা ও সংস্কৃতির উদ্ভব ও বিকাশ সম্পর্কে মূল্যবান তথ্য পরিবেশন করেছেন। যা হােক, সভ্যতা ও সংস্কৃতি অগণিত তরঙ্গের স্থমশ্রণে গঠিত এক সলিলধারা বললে অত্যুক্তি করা হবে না। সভ্যতার স্রোতধারা পরিপূর্ণতা লাভ করার পর যাগ্য সৃজনী শক্তির অভাবে স্তিমিত হয়ে পড়ে। কিন্ত তা আবারো বহিরাগত কোন সংস্কৃতি ও সভ্যতার প্রভাবে বা সংমিশ্রণে পূর্বর শক্তি ফিরে পায় অথবা আরও শক্তিশালী হয়ে ওঠে। মােট কথা, সভ্যতা ও সংস্কৃতি হচ্ছে সামগ্রিক জীবনের রুপরেখা, কোন একটি বিশেষ দিকের প্রতিফলন নয়। সমগ্র বিশ্বে মানুযে মানুযে এবং জাতিতে জাতিতে যে পার্থক্য পরিদুষ্ট হয়, তা আসলে সভ্যতা ও সংকৃতিরই পার্থক্য বটে । তবে সভ্যতা বিকাশের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস ও খিস্টপূর্ব ৫,০০,০০০ হতে ১০,০০০ অব্দ পর্যন্ত সময়ে এ ধরাধামে সর্বপ্রথম নিয়েনডারথাল মানবগোষ্ঠীর আবির্ভাব ঘটে বলে অনমান করা হয়। এ সময়ে প্রাচীন প্রস্তর যুগের সূচনা হয়। এ প্রস্তর যুগের শেষ ভাগে ক্রোম্যাগনন মানুষ হতে দ্বিপদবিশিষ্ট দণায়মান মানবগোষ্ঠীর উদ্ভব ঘটে। যা হাক, আদিম গুহাবাসী এবং বন-জ্গলে বিচরণকারী পুরাতন প্রস্তর যুগের কিংবা তৎপরবর্তীকালে নব্য- প্রস্তুরযুগের মানুযের জীবন। ধারণের তাগিদে খাদ্য উৎপাদন ও সংগ্রহ এবং আত্মরক্ষার জন্য অস্ত্র উদ্ভাবন শুরু কুরে। এরপর মানুষ বিভিন্ন ধাতুর ব্যবহার, আগুন জ্বালানাে, বস্রবয়ন, পশুপালন ও নানাবিধ শিল্পদ্রব্য তৈরি করতে শেখে। অতঃপর কৃষিকার্য ও ব্যবসায়- বাণিজ্যেরও প্রবর্তন সূচিত হয়। প্রথমাবস্থায় দ্রুব্যের বিনিময়ে দ্রব্য এবং পরবর্তীকালে ক্রমান্বয়ে অর্থের বিনিময়ে বাণিজ্যিক লেনদেন ও কারবার চালু হয়। অতঃপর আন্তর্জাতিক বাণিজ্যেরও প্রসার ঘটে। এভাবে সমাজ ও সভ্যতার উৎপত্তি ও ক্রমবিকাশ ঘটতে থাক। ঐতিহাসিক যুগে পদার্পণ করে মানুয চিত্রে লিখন পদ্ধতির উদ্ভাবন করে নিজেদের ধ্যান-ধারণা, চিন্তা-ভাবনা । আবেগ-অনুভূতি প্রভৃতি প্রকাশে তৎপর হয়ে ওঠে । খ্রিস্টপূর্ব ৮০০০ অব্দে মেসােপটেমিয়ার জনগণ এ বিষয়ে অগ্রণী ভূমিকা সভ্যতার উন্মেষের মূলে ছিল মানব সমাজ শান্তি শঙলা বজায় রাখা, আইন-কানুনের প্রচলন করা, জ্ঞান- বিজ্ঞানের অনুশীলন করা, ধর্মীয় অনুশাসন প্রবর্তন ইত্যাদি। বিশ্বের প্রাচীনতম সভ্যতার নিদর্ন পাওয়া যায় নীল নদ, ইউফ্রেটিস ও টাইগ্রীস এবং সিন্ধু নদের অববাহিকায়। এক কথায়, নিকট প্রাচ্যে অর্থাৎ উত্তরে কাস্পিয়ান ও কৃষ্ণ সাগরের মধ্যবর্তী অগুল ; দক্ষিণে লোেহিত সাগর, পারস্য উপসাগর ও আরব সাগর ; পূর্বে সিন্ধুনদ এবং পশ্চিমে ভূমধ্যসাগর ও নীলনদ পরিবেষ্টিত অঞ্চলে বিশ্বের প্রাচীনতম সভ্যতাগুলার উন্মেষ ও ক্রমবিকাশ ঘটে। নদ-নদী বিধৌত এ বিস্তৃত এলাকায় পর্যাপ্ত পানি সরবরাহ, উর্বর ভূমি, অফরন্ত প্রাকৃতিক সমপদ, যাতায়াতের সুব্যবস্থার কারণে সভ্যতার বিকাশ ঘটেছিল। মেসােপটেমীয় এবং মিসরীয় সভ্যতা মানব সভ্যতার ইতিহাসে সর্বপ্রাচীন সভ্যতা বলে ঐতিহাসিকগণ মনে করেন। পরিশেষে বলা যায় যে, মুসলমানগণ খ্রিস্টানদের কাছে এবং খ্রিস্টানগণ মুসলমানদের কাছে জ্ঞান- বিজ্ঞান এবং সভ্যতা-সংস্কৃতির বিকাশের ক্ষেত্রে ঋণী। গ্রীসের কাছে রোম, রােমের কাছে গ্রীস এবং ভারত, চীন, ইউরাপ, ইরান, পাকিস্তান, বাংলাদেশ প্রভৃতি দেশগুলো সভ্যতা ও সংস্কৃতির ক্ষেত্রে পারসপরিক আদান-প্রদান করে একদেশ অন্য দেশের সভ্যতা দ্বারা সমৃদ্ধিশালী হয়ে উঠেছে। উল্লেখ্য যে, যে জাতি যত বেশি আদান- প্রদান করেছে সে জাতি সভ্যতার ক্ষেত্রে তত বেশি সমদ্ধিশালী হয়ে উঠেছে। এভাবে বিশ্ব সভ্যতার ক্রমবিকাশ ঘটেছে এবং ঘটছে। অন্য প্রাণির সভ্যতা নেই। আর মানব জাতির সভ্যতার উদ্ভব ও বিকাশের ইতিহাস আছে বলেই সে আশরাফুল মাথলুকাত। যাহােক, বিশ্বসভ্যতার প্রবহমান ধারা সৃষ্টির আদিকাল থেকে অদ্যাবধি অব্যাহত রয়েছে। সভ্যতার সৌধের গঠনে কম-বেশি সকল দেশ ও জাতির কিছু না। কিছু অবদান অবশ্যই রয়েছে। এ প্রসঙ্গে ডঃ এডগার সােয়েনের মন্তব্যটিও প্রণিধানযোেগ্য। তিনি বলেন, "সভ্যতা কোান একটি রাষ্ট্রের রাজনৈতিক সীমারেখার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না; এর ধারা সমগ্র বিশ্বব্যাপী বিস্তৃত। "Civiization not confined within political boundaries of a state : it is world-wide."] সেমেটিক জাতি ঃ মহাপ্রাবনের পরবর্তীকালের ইতিহাস পর্থালােচনা করলে পরিলক্ষিত হয় যে, হজরত নূহ (আঃ ফিভীয় পুত্ হামের বংশধরগণ হ্যামিটিক (শিশরীয়) এবং তৃর্তীয় পুত্র ইয়াফাসের বংশধরগণ আর্থ ভারত, ইরানী) প্রভৃতি সেমেটিক জাতির আদি বাসস্থান ছিল আরবভমি। মানব সভ্যতার ইতিহাসে তাদের অবদান রয়েছে অপরিসীম। বিশ্বের তিনটি একেশ্বরবাদী ধর্মের প্রবর্তক ছিলেন এই সেমেটিক জাতিরই তিনজন অমর কৃতি সস্তান। ইতুপি ধর্মের প্রবর্তক হজরত মুসা (আঃ), খ্রিস্টান ধর্মের প্রবর্তক হজরত ঈশা (আঃ) এবং ইসলাম ধর্মের সফল প্রবর্তক হজরত মুহম্মদ (সঃ) ছিলেন সেমেটিক জাতির অন্তর্ভূক্ত বিশ্ববরেণ্য তিন ব্যক্তিত্ব। কোন কোন ঐতিহাসিকের মতে, কোন এক সময়ে সেমেটিক জাতি-গােষ্ঠীর সকলেই একই স্থানে বসবাস করত, একই ভাযায় কথা বলত, একই ধর্মে বিশ্বাস করত এবং একই সমাজ বিধান মেনে চলত। কিন্তু লোকসংখ্যা বৃদ্ধি, অনুদার প্রকৃতি, দুঃখসহ ভৌগোলিক পরিবেশ ও আর্থিক দুরবস্থার কারণে স্বাভাবিকভাবেই তারা পার্শ্বব্ত্তী উর্বর অঞ্চলের প্রতি প্রলৃ হয়। এভাবে আনুমানিক খ্রিস্টপর্ব ৩৫০০ অব্দে সেমিটিক জাতির একটি অংশ আদি বাসভূমি আরব ত্যাগ করে টাইগ্রীস- ইউফ্রেটিস উপত্যকায় গমন করে সমেরীয় নামক সসভ্য একটি অসেমিটিক জাতির সংস্পর্ণে এসে ব্যবিলনীয় ও অ্যাসিরীয় সভ্যতার উদ্ভব ঘটায়। খ্রিস্টপূর্ব ২৫০০ অব্দ সেমিটিক ভজাতির অপর একটি শাখা সিরিয়া ও প্যালেস্টাইনে গমন করে হিবর সভ্যতা গড়ে তুলে । সেমিটিক জাতির অন্য একটি শাখথা ভূমধ্যসাগর ও লেবানন পর্বতের মধ্যবর্তা ভূ-ভাগে বসতি স্থাপন করে ফিনিসীয় সভ্যতার ভিত্তি স্থাপন করে। সেমেটিক জাতির একটি শাখা (খ্রিস্টপূর্ব ৩৫০০ অব্দ) মিশরে বসতি স্থাপন করে স্থানীয় হ্যামিটিকদের সভ্যতার সংস্পর্শে এসে মিলিতভাবে ইতিহাস খ্যাত মিশরীয় সভ্যতার উদ্ভব ঘটায় । পি, কে, খ্রিস্টপূর্ব ৩৩১ অব্দে গ্রীক সম্রাটি আলেকজান্ডার কর্তৃক পারস্য বিজয়ের পর প্রাচ্য ও পাশ্চাত্য সভ্যতার মধ্যে ভাবের বিনিময় ঘটে। পারস্পরিক ভাব বিনিময়ের ফলে এক উন্নত সভ্যতা জন্মলাভ করে। ইতিহাসে এ সভ্যতাই হেলেনীয় সভ্যতা নামে প্রসিদ্ধি লাভ করেছে। খ্রিস্টপূর্ব ১৪৬ অব্দে গ্রীস অধিকার করে রোমানরা পূর্বোক্ত সভ্যতার উত্তরাধিকারী হয়। সম্তম শতাব্দীতে আরবীয় মুসলমানগণ রোেম ও পারস্য আধিকার করে উক্ত সভ্যতার সাথে স্বীয় সভ্যতার সংমিশ্রণ ঘটিয়ে এক উন্নত সভ্যতা গড়ে তোেলে। ক্রসেডের সময় এ সভ্যতা ইউরোপীয়ানদের মধ্যে বিস্তার লাভ করে ইউরোপে "রেনেসীর" বা নবজ্গাগরণের। সুচনা করে। এ সেমেটিক সভ্যতাই আধুনিক ইউরোপীয় বা বিশ্ব সভ্যতার মুলে রয়েছে।

সম্পর্কিত প্রশ্নগুচ্ছ

1 উত্তর
1 উত্তর
1 উত্তর
28 নভেম্বর 2021 "পড়াশোনা" বিভাগে জিজ্ঞাসা করেছেন Md. Redowan lslam
1 উত্তর
27 নভেম্বর 2021 "পড়াশোনা" বিভাগে জিজ্ঞাসা করেছেন Md. Redowan lslam
অ্যান্সগুরু বাংলা ভাষায় সমস্যা সমাধানের একটি অনলাইন কমিউনিটি। এখানে আপনি প্রশ্ন করতে পারবেন এবং অন্যদের প্রশ্নে উত্তর প্রদান করতে পারবেন ৷ আর অনলাইনে বিভিন্ন সমস্যার সমাধানের জন্য উন্মুক্ত তথ্যভাণ্ডার গড়ে তোলার কাজে অবদান রাখতে পারবেন ৷

1,381 টি প্রশ্ন

1,164 টি উত্তর

5 টি মন্তব্য

50,718 জন সদস্য

4 Online Users
3 Member 1 Guest
Today Visits : 3860
Yesterday Visits : 9030
Total Visits : 337398
...