ভারতবর্ষে আগত ইউরােপীয় কোম্পানিসমূহ এবং এ উপমহাদেশে বিভিন্ন জাতির আগমন বর্ণনা করো? - অ্যান্সগুরু
21 বার প্রদর্শিত
"পড়াশোনা" বিভাগে করেছেন
পূনঃরায় খোলা করেছেন

এই প্রশ্নটির উত্তর দিতে দয়া করে প্রবেশ কিংবা নিবন্ধন করুন ।

2 উত্তর

0 পছন্দ 0 জনের অপছন্দ
করেছেন

ভারতবর্ষে আগত ইউরােপীয় কোম্পানিসমূহ : বহু প্রাচীনকাল থেকে পাশ্চাত্য দেশগুলাের সাথে
উপমহাদেশে বাণিজ্যিক সুসম্পর্ক বিদ্যমান ছিল। ক্রুসেডের পর থেকে ভারতীয় উপমহাদেশের সাথে
পশ্চিমা দেশগুলাের বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ হয়। তখন ইতালির ভেনিস, ফ্লোরেস, জেনােয়া
প্রভৃতি নগররাষ্ট্রগুলাে এশিয়া মাইনরের শহরগুলােতে বাণিজ্য কুঠি স্থাপন করে ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলে
একচেটিয়া বাণিজ্যিক অধিকার লাভ করেছিল। কিন্তু ১৪৫৩ খ্রিষ্টাব্দ তুরস্ক কনস্টান্টিনােপল অধিকার
করে ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চল আধিপত্য বিস্তার করলে  তখন পশ্চিমা দেশগুলাের সাথে উপমহাদেশের ব্যবসায়
বাণিজ্যের পথ রুদ্ধ হয়ে পড়ে। সমগ্র ইউরোপীয় দেশসমূহে ভারতীয় দ্রব্যসামগ্রী বিশেষ করে মসলা,
সােনা-রুপার চাহিদা অত্যধিক অনুভূত হওয়ায় তারা ভারতীয় উপমহাদেশের সাথে নতুন পথের সন্ধান
করেছিল।
ভাস্কো-দা-গামা কর্তৃক নতুন পথের আবিষার :
পঞ্চদশ শতাব্দীতে ইউরােপ মহাদেশের
ভৌগােলিক আবিষ্কার এবং পর্তুগিজ শক্তির
উত্থান ঘটায় তাঁরা দুঃসাহসিক আবিষ্কারে উদ্বুদ্ধ
হয়ে ওঠে। ইউরােপীয় জাতিসমূহের মধ্যে
নৌবিদ্যায় পারদর্শী। পর্তুগিজ নাবিক প্রিস্স
হেনরির নেতৃত্বে পর্তুগিজগণ আফ্রিকা হয়ে
উপমহাদেশে আসার পথ সন্ধান করতে থাকেন
পর্তু গিজগণ ছিল অত্যন্ত দুঃসাহসী এবং
এবং ১৪৮৭ খ্রিষ্টাব্দে নাবিক বার্থলামিউ দিয়াজ
উত্তমাশা অন্তরীপ ঘুরে আসেন। তাঁরই প্রদর্শিত
পথে পর্তুগালের রাজা ভাস্কো-দা-গামার নেতৃত্বে একটি অভিষাত্রিক দল প্রেরণ করেন এবং এক দীর্ঘ
দুঃসাহসিক সমুদ্রযাত্রার পর ১৪৯৮ খ্রিষ্টাব্দের ২০ মে তিনি উপমহাদেশের, কালিকট বন্দরে এসে
উপস্থিত হন। ভাঙ্কো-দা-গামার উপমহাদেশে আগমনের সাথে সাথে ইউরোপের সঙ্গে এ দেশের প্রত্যক্ষভাবে যােগাযােগ স্থাপিত হয়।



মপর্ভাগিজ কোম্পানি : ১৪৯৮ খ্রিস্টান্দে ভাঙ্কো-দা-গামার উপমহাদেশ আগমন ভৌগােলিক আবিষ্কারের
দিক দিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। তিনি যখন কালিকট বন্দরে অবতরণ করেন তথন সেখানকার
স্থানীয় রাজা জামােরিক তাঁকে আতিথেয়তা প্রদান করেন। এতে আরব বণিকগণ ঈর্ষান্বিত হয়ে
পর্তুগিজদের বিরােধিতা করতে থাকে। এর ফলে তিন মাস অবস্থানের পর ভাস্কো-দা-গামাকে বাধ্য হয়ে
উপমহাদেশ ত্যাগ করতে হয় কিন্তু উপমহাদেশ ত্যাগের পূর্বে ভারতীয় রাজন্যবর্গের ও আরব
বণিকদের দুর্বলতা তার সামনে উদ্ভাসিত হয়ে ওঠে।
ভাস্কো-দা-গামার স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের পর ১৫০০ খ্রিস্টাব্দে পেড্রো আল-ভারেজ কাব্রাল তেরটি
নৌবহরসহ উপমহাদেশে আগমন করেন। কালিকটের রাজা জামােরিক তাঁকে যথাযথ আতিথেয়তা
প্রদান করেন। কিন্তু তিনি আরব বণিকদের প্রতি ক্রমাগত দমননীতির ফলে উদ্বিগ্ন হয়ে ওঠেন এবং
স্থানীয় মুসলমান, গুজরাট ও মিসরের সুলতানের সাহায্যে পতুগিজদের বিরুদ্ধে যুদ্ধি ঘােষণা ক্রেন।
কিন্তু পর্তুগজ বাণিজ্য জাহাজগুলোে আধুনিক রণতরীর মতােই কামান দ্বারা সুসঞ্জিত থাকায় কালিকটের
রাজার সম্মিলিত বাহিনী পতুগিজদের নিকট শােচনীয়ভাবে পরাজিত হয়। এ পরাজয়ের ফলে ভারতীয়
রাজন্যবর্গের রাজনৈতিক দূর্বলতা পর্তুগিজদের সমুখে সপষ্ট হয়ে ওঠে। ফলে তারা ভারতীয় রাজনীতিতে
হস্তক্ষেপ করতে শুরু করে। অতঃপর কব্রালের উপমহাদেশ ত্যাগের পর ১৫০২ খ্রিষ্টাব্দে ভাস্কো-দা-গামা
পুনরায় ভারতীয় উপমহাদেশে আগমন করেন এবং কোটিন ও ক্যানানােরে দৃটি বাণিজ্য কুঠি স্থাপন
করেন। এরপর পর্তুগিজগণ বছরে একজন করে প্রতিনিধি প্রেরণ করে ভারতীয় বাণিজ্যকুঠিগুলাে
তদারক করার নীতি প্রবর্তন করেন।
ভারতীয় বাণিজ্য কুঠিগুলোের প্রতিনিধি হিসেবে ফ্রান্সিকো ডি-আল মিডার প্রত্যাবর্তনের পর
আলবুকার্ক উপমহাদেশে আগমন করেন। আলবুকার্ক পর্তুগিজ গভর্নরদের মধ্যে ছিলেন সর্বশ্রেষ্ঠ এবং
তাঁর নেতৃত্বে উপমহাদেশে পতুণিজগণ খুব সমৃদ্ধ এবং শক্তিশালী হয়ে ওঠে। ভারতীয় উপমহাদেশের
রাজন্যবর্গের দুর্বলতার সুযোগে আলবুকার্ক উপমহাদেশে পর্তুগিজ সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠার স্বপ্প দেখতে
থাকেন। এ উদ্দেশ্যে তিনি বিজাপুরের সুলতানের নিকট থেকে গােয়া দখল করে একটি শক্তিশালী
বাণিজ্য কেন্দ্র ঘাঁটি হিসেবে গড়ে তালেন। এরপর তিনি মালাক্কা এবং হুরমুজ দখল করে কোচিনে
একটি শক্তিশালী বাণিজ্য কেন্র স্থাপন করেন। ভারতীয় জনগণের প্রতি পর্তুগিজদের অত্যাচার,
উৎপীড়ন সত্ত্বেও তিনি ভারতে একটি স্থায়ী পর্তুগিজ সমাজ গড়ে তােলার জন্য ভারতীয় মহিলাদের
বিয়ে করার নির্দেশ দেন। পর্তুগিজদের স্বা্থ সংরক্ষণের জন্য তিনি নিঃস্বর্থভাবে কাজ করেন এবং তিনি
১৫১৫ খ্রিষ্টাব্দে মারা যান। তার উত্তরাধিকারিগণ দিউ, দমন, কালিকট, কোচিন, বোম্বাই, সিংহল,
হুগলি এবং বঙ্গদেশে শক্তিশালী বাণিজ্য কুঠি স্থাপনে সক্ষম হয়েছিল। কিন্তু উপমহাদেশে তাদের
একচছত্র আধিপত্য দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। ক্রমে ইংরেজ ও ওলন্দাজদের উত্থানের ফলে তাদের পতন ঘনিয়ে
আসে।


পর্তুগিজদের পতন: ইউরোপীয় বণিকদের মধ্যে পর্তুগিজগণ সর্বপ্রথম উপমহাদেশে আগমন করে। উপমহাদেশে
বিভন্ন অঞ্চলে শক্তিশালী দুর্গ এবং বাণিজা কেন্দ্র স্থাপন করে। কিন্তু ভারতীয়দের প্রতি ক্রমে তাদের
দুর্ব্যবহার এবং উৎপীড়ন পতু্গিজদের পতনের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
প্রথমত, ধমীয় অসহিষুঃতা এবং অধিকৃত অঞ্চলসমূহের জনগণের প্রতি অমানুষিক উৎপীড়ন
পর্তুগিজদের পতনের অন্যতম কারণ। জোরপূর্বক হিন্দু-মুসলিম বালক-বালিকাকে অপহরণ করে খ্রিস্টান
ধর্মে দীক্ষিতকরণ অথবা দাস-দাসীতে পরিণত করা, মমতাজ মহলের দু'জন পরিচারিকাকে
অপহরণ করার মতাে ধৃষ্টতা স্রাটকে উত্তেজিত করে তোলে।  ১৬৩২
খ্রিষ্টাব্দে কাসিম খানের নেতৃত্বে এ অবাঞ্জিত বিদেশিদেরকে হুগলি হতে বিতাড়িত করেন।দ্বিতীয়ত, পতুগিজ সরকার আলবুকার্কের পর অপর কোনাে প্রতিভাসপ্পন্ন গভর্নর উপমহাদেশে
প্রেরণ করতে পারেননি। পরবর্তী পর্তুগিজ গভর্রদের অদুরদর্শিতা তাদের পতনের অন্যতম কারণ ছিল।
তৃতীয়ত, উপমহাদেশের অধিকৃত অঞ্চলসমূহে পতুথিজদের শাসন ছিল কলুষিত এবং
দুনীতিপরায়ণ। তারা নিয়মিত বেতন না পাওয়ায় জনগণের নিকট থেকে অতিরিক্ত কর এবং উৎকোচ
গ্রহণ করতো। তাদের নিচু ব্যবহার এবং উদ্ধুত আচরণ এদেশে পর্তুগিজ শাসনের পরিপন্থী ছিল।
ইংরেজদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে লিপ্ত হয়। এ যুদ্ধে পন ও পর্তুগাল প্রভৃত ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় সুদূর ভারতে
তাদের রাজ্য রক্ষণাবেক্ষণ করা সম্ভব হয় , স্বদেশ হতে প্রয়োজনীয় আর্থিক সাহায্যের অভাবে পর্তৃগিজ কোম্পানি তাদের নিয়ম-শজথলা হারিয়ে ফেলে। তারা গােপনীয়ভাবে নানা প্রকার অবৈধ ব্যবসায় বাণিজ্যে লিপ্ত হয়ে পড়ে।কিন্তু মুঘল সম্রাট আকবরের কঠার নিয়ন্ত্রণে পতূগিজদের অগ্রগতি ব্যাহত হয়ে পড়ে।এ সময়ে আরও তিনটি ইউরোপীয় বণিক সম্প্রদায়ের আবির্ভাব ঘটে । তারা মূলত ফরাসি ও ইংরেজ। তারা পরস্পর বাণিজ্যিক প্রতিদ্বন্দিতায় লিপ্ত থাকায় তাদের মধ্যে
নিরার্য হয়ে পড়ে। পরস্পর শক্তি পরীক্ষায় লিপ্ত হয়ে পর্তুগিজগণ উপমহাদেশে গোয়া, এবং
বাণিজ্য কুঠিগুলাে হারিয়ে ফেলে। শক্তির ভারসাম্য রক্ষা করতে না পেরে হলে অপসারণে ভারতীয় উপমহাদেশে ইংরেব্যবসার নির্মিত
তােলে। কিন্তু ১৬০০ খ্রিস্টাব্দে ইংলিশ ইষ্ট ইন্ডয়া কোম্পানি গঠিত হলে হল্যান্ডের ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র বাণিজ্য
উপমহাদেশে আগমন করে। প্রাচ্যে ব্যবসায়ের উদ্দেশ্যে তারা বহু ক্ষুদ্র ও ফরাসি শক্তিই প্রবল হয়ে ওঠে
ওলন্দাজদের উপমহাদেশে আগমন
হল্যান্ডের অধিবাসিগণ ওলন্দাজ নামে পরিচিত। পর্তুগিজদের পরেই তারা ক্ষুদ্র বাণিজ্য প্রতিষ্ঠান গড়ে
প্রতিষ্ঠানগুলাে সম্মিলিতভাবে ইউনাইটেড । ওলন্দাজ বণিকগণ ক্রমশ ব্যবসায়ের উপর
ব্যবসায়ের উদ্দেশ্যে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দ্বীপপু্জের দিকে অগ্রসর হয়ে ১৬৪১ খ্রিস্টাব্দে পর্তুগিজদের নিকট থেকে মালাক্কা দখল করে। ইতােমধ্যে জেন-পীটারসন কোয়েন ওলন্দাজ কোম্পানির দায়িত্ব গ্রহণ করে ভারতীয় উপমহাদেশের দিকে ব্যবসায় সম্প্রসারণের জন্য সচেষ্ট হন। তিনি ১৬৫৮ খ্রিষ্টাব্দে গােয়া অবরোধ করে পর্তুগিজদের বিতাড়িত করে সিংহল দখল করেন।ওলন্দাজগণ ক্রমশ সুমাত্রা, জাভা প্রভূতি দ্বীপপুঞ্জে নিজেদের কর্তৃত্ব স্থাপন করে উপমহাদেশের দিকে অগ্রসর হয়। ধীরে ধীরে গুজরাট, করমণুল, বাংলা, বিহার এবং উড়িষ্যায় ওলন্দাজদের বাণিজ্য কুঠি স্থাপিত হয়। 
0 পছন্দ 0 জনের অপছন্দ
করেছেন
বাকি অংশ নিম্নরূপ:

উপমহাদেশে তাদের শক্তিশালী বাণিজ্য কুঠি ছহিল সুরাট, চুঁছড়া, পাটনা, কাশিম বাজার, কোচিন এবং নাগপট্টম। ভারতীয় উপমহাদেশে পর্তুগিজদের বাণিজ্য কুঠিগুলো ওলন্দাজদের
হস্তরগত হলে ইংরেজদের সাথে তাদের সংঘাত অনিবার্য হয়ে ওঠে। শেষ পর্যন্ত ওলন্দাজগণ ভারতীয় উপমহাদেশে ইংরেজদের সাথে শক্তির ভারসাম্য রক্ষা করতে না পেরে বিতাড়িত হয়। দিনেমারদের আগমন অন্যান্য ইউরোেপীয় জাতিসমূহের ন্যায় ১৬১৬ খ্রিস্টাব্দে দিনেমারগণ ডেনিস ইন্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি গঠন করে উপমহাদেশে আগমন করে। তারা ১৬২০ খ্রিষ্টাব্দে তাঙেজার জেলার ট্যাস্কূভার এবং ১৬৭৬ খ্রিস্টাব্দে কলিকাতার উত্তরে শ্রীরামপুরে দুটি বাণিজ্য কুঠি স্থাপন করে। ব্যবসায়িক প্রতিযোগিতায় অন্যান্য জাতির সাথে টিকে থাকতে না পেরে ইংরেজদের নিকট তাদের বাণিজ্য কুঠি হস্তান্তর করে স্বদেশে দিনেমারগণ প্রত্যাবর্তন করে। ইংরেজদের উপমহাদেশে আগমন বাণিজ্যের উদ্দেশ্যে অন্যান্য ইউরোেপীয় জাতিসমূহের ন্যায় ইংরেজদের উপমহাদেশে আগমন এক গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। অন্যান্য ইউরােপীয় বণিক সম্প্রদায়ের সাফল্যজনক সমুদ্র যাত্রা, বহির্বাণিজ্যের সাফল্য, ১৫৮০ খ্রিস্টাব্দে ফ্রাপি্স ড্রেকের পৃথিবী পরিভ্রমণ, ইংরেজ নৌ-বহর কর্তৃক স্পেনীয় আর্মাডার পরাজয়,  সিনাডেনহলা কর্তৃক উপমহাদেশে অতুল ঐশ্বর্যের বর্ণনা ইংরেজ বণিকগণকে প্রাচ্যে ব্যবসায়ের জন্য অতিমাত্রায় উৎসাহিত করে। তারা ১৬০০ খ্রিষ্টাব্দে লন্ডনে একটি বণিক সম্প্রদায় গঠন করে প্রাচ্যে বাণিজ্যের উদ্দেশ্যে ইংল্যান্ডের রানি প্রথম এলিজাবেথের নিকট একটি সনদ প্রার্থনা করে। এ নবগঠিত বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান ইংলিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি নামে পরিচিত। একজন শাসনকর্তা, একজন সহকারী শাসনক্তা এবং চব্বিশ সদস্যবিশিষ্ট গঠিত এ কোম্পানিকে রানি পনের বছর মেয়াদে প্রাচ্যে বাণিজ্যের আধিকার প্রদান করেন। ১৬০০ খ্রিষ্টাব্দের ৩০ ডিসেম্বর এ সনদপত্র প্রদান করা হয়।

উপমহাদেশে ইংরেজদের বাণিজ্য কুঠি স্থাপন : ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানিকে প্রথম দিকে নানাবিধ অসুবিধার সম্মুখীন হতে হয়েছিল। কেননা ইংরেজ বণিকগণের আগমনের বহু পূর্বেই পর্তুগিজ এবং  ওলন্দাজগণ প্রাচ্যের বাণিজ্য ঘাঁটিগুলাে দখল করে নিয়েছিল। সেজন্য তাদেরকে পর্তুগিজ, এবং ওলন্দাজ বণিকদের সঙ্গে একাধিক বিরােধিতা এবং তীব্র প্রতিদ্বন্দিতার মােকাবিলা করতে হয়েছল।প্রথম দিকে ইংরেজ কোম্পানির বাণিজ্য জাহাজ জাভা, সুমাত্রা, মালাক্কা ও যব্বীপের দিকে গ্রহণ করে। এ সময় ক্যাপ্টন হকিন্স ইংল্যান্ডের রাজা প্রথম জমস-এর অনুমীত নিয়ে ভারতীয় মহাদেশের মুঘল সম্রাট জাহাঙ্গীরের দরবারে আগমন করেন। হকিন্সের আবেদনক্রমে ইংরেজগণ 
সস্রাট জাহাঙ্গীরের নিকট থেকে সরাটে একটি বাণিজ্য কুঠি নির্মাণের অনুমতি লাভ করে। কিন্তু সুরাটের ভারতীয় বণিক সম্প্রদায় এবং পর্তুগিজদের বিরােধিতার কারণে সম্রাট কর্তৃক ইংরেজদের প্রাণ্ত সুযােগ -সবিধা সবই প্রত্যাখ্যাত হয়। ফলে মালয় দ্বীপে ওলন্দাজদের বিরোধিতা এবং ভারতীয় পর্তুগিজদের অসহযােগিতায় ইংরেজ ইন্ট ইভ্ডিয়া কোম্পানিকে প্রভুত অসুবিধার সম্মুখীন হতে হয়। ১৬১২ খ্রিষ্টাব্দে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির দৃটি বাণিজ্য জাহাজ সুরাট বন্দরে প্রবেশের চেষ্টা করলে পর্তুগিজ নৌবহর গতিরােধ করে। কিন্তু ইংরেজ কোম্পানির ক্যান্টেন পর্তুগিজ নৌবহর বিধ্যন্ত করে সুরাটে অবস্থান গ্রহণ করেন। ফলে মুঘলদের নিকট ইংরেজদের প্রতিপত্তি এবং মর্যাদা বৃদ্ধি পায়। ক্যান্টেন বেট্টের সাফলোয মুঘল স্ম্রাট জাহাঙ্গীর স্ত্ট্ হয় এবং ১৬১৩ খ্রিক্টাব্দে এক ফরমান বলে সুরাটে ইংরেজগণকে বাণিজ্য কুঠি নির্মাণের অনুমতি প্রদান করেন। ১৬১৫ খ্রিষ্টাব্দে ইংরেজগণ অগর একটি নৌযুদ্ধে পতুগিজগণকে পরাজিত এবং বিতাড়িত করে হুরমুজ দখল করে।

১৬১৫ খ্রিস্টাব্দে রাজা জেমস-এর রাজত্বকালে স্যার টমাস রে রাষ্ট্রদুত হিসেবে সমাট জাহাঙ্গীরের দরবারে আগমন করেন। তিনি দীর্ঘ তিন বছর মুঘল দরবারে অবস্থান করে ইষ্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির জন্য কতগুলাে বাণিজ্যিক সুযােগ-সুবিধা লাভ করেন। এর ফলে ইংরেজগণ সুরাট, আগ্রা, আহমদাবাদ এবং  ব্রোচ প্রভূতি স্থানে বাণিজ্য কুঠি স্থাপনে সক্ষম হন। এ সকল অঞ্চলের বাণিজ্য পরিচালনার ভার একজন ইংরেজ রেসিডেন্ট ও একটি কাউন্সিলের হন্তে ন্যন্ত করা হয়। ফলে পূর্ব সমুদ্রে পর্তুগিজ শক্তি অনেকাংশে দুর্বল হয়ে পড়ে।১৬৬১ খ্রিস্টাব্দে ইংল্যান্ডের রাজা দ্বিতীয় চার্লস পর্তুগিজ রাজকন্যা ক্যাথারিন অব ব্রাগান্ডাকে বিয়ে
করে যৌতুকন্বরূপ বামাই (বর্তমানে মু্বাই) শহরটি লাভ করেন। এর কিছুকাল পর বাৎসরিক পঞ্চাশ হাজার পাউন্ডের বিনিময়ে তিনি তা ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির নিকট বিক্রয় করেন। ফলে পশ্চিম ভারতে সরাটের পরিবর্তে বােখাই (মুস্বাই) ইংরেজদের শক্তিশালী বাণিজ্য ঘাঁটিতে পরিণত হয়  উপমহাদেশের দক্ষিণ-পূর্ব উপকূলে গােলকুন্ডা রাজ্যের মসলিম ইংরজগণ কুঠির নির্মাণ করেছিল। কিন্তু সেখানে দেশীয় বণিক এবং ওলন্দাজদের আবিরত  ইংরেজগণ ১৬২৬ খ্রিষ্টাব্দে আরামগাঁও নামক স্থানে অপর একটি বাণিজ্য কঠি স্থাপন করে বাংসরিক শুন্কু প্রদানের অঙ্গীকারে গােলকুভার সুলতানের নিকট থেকে মসলিপট্টমসহ অন্যান্য  বন্দরসমূহে বাণিজ্যিক অধিকার লাভ করে। ইতােমধ্যে ফ্রান্সিস ডে নামক একজন ইংরেজ নাবিক  করেন। এরূপে মাদ্রাজ ইংরেজদের শক্তিশালী বাণিজ্য কেন্ড্রে পরিণত হয়। ক্রমে ক্রমে ইংরেজগণ  চন্দ্রগিরির রাজার নিকট থেকে মাদ্রাজের ইজারা উড়িষ্যার হরিহরপুর, বালাসাের, পাটনা এবং কাশিম বাজারে বাণিজ্য কুঠি স্থাপন করে। উপমহাদেশে ব্যবসায় বাণিজ্যে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি আশানুরূপ সুবিধা করতে না পারায় ক্রমে
তাদের নীতির পরিবর্তন ঘটতে থাকে। এ শতাব্দীর শেষের দিকে ইংরেজ বণিকগণ শাস্তির নীতি পরিত্যাগ করে যুদ্ধনীতি গ্রহণ করে। ফলে তাদের বাণিজ্যিক মানদন্ডও রাজদণ্ডে পরিণত হয়। এর পশ্চাতে  নানাবিধ কারণ ছিল। প্রথমত দাক্ষিণাত্যের মুঘল মারাঠা সংঘর্ষ। মারাঠাগণ কর্তৃেক সুরাট বন্দর লুষ্ঠন এবং বাংলাদেশে মুঘল শাসনের ক্রমাবনতির ফলে ইংরেজগণ উপমহাদেশে সাম্রাজ্য স্থাপনে উৎসাহী হয়ে ওঠে। দেশীয় রাজন্যবর্গের দুর্বলতার সুযোেগে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি ইংল্যান্ডের কর্তৃপক্ষের নিকট  থেকে ১৬৮৮ খ্রিষ্টাব্দে মুঘলদের বিরুদ্ধে অন্ত্রধারণের অনুমতি লাভ করে। ফলে বাংলাদেশে ইংরেজ  বণিকদের শুক্ক সংক্রান্ত ব্যাপারই ছিল।এ সংঘর্ষের মূল কারণ। এ সময় যণুয়া চাইল্ড নামে ইংরেজ  কোম্পানির একজন প্রভাবশালী ডাইরেক্টরের আবির্ভাব ঘটে। যগুয়ার সম্প্রসারণ নীতি অনুসরণ করে তাঁর ভ্রাতা স্যার জন চাইন্ড বােন্বাই বন্দর অবরােধ করে মুঘল নৌবহর আটক করেন। ইংরেজদের ঔদ्ধত্যামূলক আচরণ এবং রাষ্ট্রবিরােধী কার্যকলাপে আওরঙ্গর্জেব ক্ষুদ্ধ হয়ে বোখাই
আক্রমণের নির্দেশ দেন। ১৬৯০ খ্রিস্টাব্দে জন চাইন্ড সম্রাট বাহিনীর নিকট পরাজিত হয়ে আওরঙ্গজেবের নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করেন। ইংরেজগণ যুদ্ধের ক্ষৃতিপুরণ স্বরূপ নগদ দেড় লক্ষ টাকা
এবং তাদের অধিকৃত অঞ্চলসমূহ সম্রাটকে ফেরত দিয়ে শান্তিচুক্তি স্বাক্ষর করে। সম্রাটের বাৎসরিক  তিন হাজার টাকার বিনিময়ে ইংরেজ কোম্পানিকে পুর্রায় বাংলায় বিনা শুক্ধে বাণিজ্যিক অধিকার  প্রদান করেন। ১৬৯১ খ্রিস্টাব্দ থেকে ১৬৯৬ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত ইংরেজ বণিকগণ বাংলাদেশে তাদের বাণিজ্য কুঠিগুলাে সুরক্ষিত করে ক্ষমতা বৃদ্ধি করেন। অতথের ১৬৯৮ খ্রিষ্টাব্দ কোম্পানি বাৎসরিক বারশ টাকার বিনিময়ে কলিকাতা, সুতানটি এবং গোবিষ্বপুরের জমিদারি লাভ করে রাজা তৃতীয় উইলিয়ামের 
নামানুসারে ফোর্ট উইলিয়াম দুর্গ নির্মাণ করেন। পরবর্তীঁকালে একে কনদ্র করে কলিকাতা মহানগরী গড়ে ওঠে। এভাবে উপমহাদেশে কৃলিকাতা, মাদ্রাজ এবং বােম্বাই ইন্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির শক্তিশালী
প্রাণকেন্দ্রে পরিণত হয়।উপমহাদেশে ইন্ট ইতিয়া কোম্পানির বাণিজ্যিক সাফল্যে ঈর্ষান্বিত হয়ে ১৬৯৮ খ্রিক্টাব্দ্দে ব্রিটিশ
পার্লামেন্টে আইন প্রণয়ন করে অপর একটি নতুন কোম্পানি গঠন করা হয়। স্যার উইলিয়াম নরিসের নেতৃত্বে নতুন কোম্পানি ভারতীয় উপমহাদেশে ইন্ডিয়া কোম্পানির প্রবল প্রতিম্বন্ী হয়ে ওঠে। কিন্তু নরিস মুঘল সম্রাট আওরঙ্গজেবের দরবারে বাণিজ্যিক সুযােগ-সুবিধা লাভে ব্যর্থ হলে ইংল্যান্ডের মন্ত্রিসভার চাপে নতুন ও পুরাতন কোম্পানি দুটি একত্রিত করে একটি সংয়ুক্ত কোম্পানি গঠন করা হয়। ১৭৯৩ খ্রিস্টাব্দে পর্যন্ত এ যুক্ত কোম্পানি উপমহাদেশে একচেটিয়া  বাণিজ্যিক সুযােগ-সুবিধা লাভ করে।
অষ্টাদশ শতাব্দীর শুরু থেকে কোম্পানির বাণিজ্যিক সুযােগ সুবিধা সম্প্রসারিত হয়। ১৭১৫ খ্রিষ্টাব্দে কোম্পানির পক্ষ হতে জন সুরম্যান বাণিজ্যিক সুযােগ-সুবিধা লাভের অভিপ্রায়ে মুঘল সম্রাট
ফররুখশিয়ারের দরবারে গমন করেন। এ সময় সম্রাট ফররুখশিয়ার কঠিন রােগে আক্রান্ত হয়ে পড়লে ইংরেজ চিকিৎসক হ্যামিলটন তাকে সুস্থ করে তোলেন বাংলা, বিহার, মাদ্রাজ এবং বােস্বাইয়ে বিনাশুক্ধে ইংরেজদের বাণিজ্যিক সনদ প্রদান করেন এতিহাসিক ওমর ইস্ট ইন্ডিয়া কোশ্পানিকে সমাট কর্তৃক প্রদত্ত - সনদকে ম্যাগনা কাটা বা মহাসনদ বলে উল্লেখ করেছেন।

সম্পর্কিত প্রশ্নগুচ্ছ

1 উত্তর
27 নভেম্বর 2021 "পড়াশোনা" বিভাগে জিজ্ঞাসা করেছেন Md. Redowan lslam
1 উত্তর
1 উত্তর
1 উত্তর
অ্যান্সগুরু বাংলা ভাষায় সমস্যা সমাধানের একটি অনলাইন কমিউনিটি। এখানে আপনি প্রশ্ন করতে পারবেন এবং অন্যদের প্রশ্নে উত্তর প্রদান করতে পারবেন ৷ আর অনলাইনে বিভিন্ন সমস্যার সমাধানের জন্য উন্মুক্ত তথ্যভাণ্ডার গড়ে তোলার কাজে অবদান রাখতে পারবেন ৷

1,381 টি প্রশ্ন

1,164 টি উত্তর

5 টি মন্তব্য

50,753 জন সদস্য

6 Online Users
4 Member 2 Guest
Today Visits : 3952
Yesterday Visits : 9030
Total Visits : 337490
...