ইঙ্গ-ফরাসি দ্বন্দ্বের প্রাক্কালে উপমহাদেশের রাজনৈতিক অবস্থা বর্ণনা করো? - অ্যান্সগুরু
18 বার প্রদর্শিত
"পড়াশোনা" বিভাগে করেছেন

এই প্রশ্নটির উত্তর দিতে দয়া করে প্রবেশ কিংবা নিবন্ধন করুন ।

1 উত্তর

0 পছন্দ 0 জনের অপছন্দ
করেছেন
দাক্ষিণাত্যে ইঙ্গ-ফরাসি দ্বন্দ্ব বিচ্ছিন্ন কোনাে ঘটনা নয়। দাক্ষিণাত্যে ইঙ্গ-ফরাসি দ্বন্দ্বের ইউরোপে ইঙ্গ- ফরাসি দ্বন্দ্বরই একটি অংশ। আমেরিকায় ও ভারতবর্ষে উপনিবেশ ও বাণিজ্য বিস্তারের লক্ষ্যে ইউরােপে ইংল্যান্ড ও ফ্রান্সকে পরস্পরের বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় লিপ্ত হতে হয়। বহু পূর্ব থেকেই ইউরোপীয় বণিক সম্প্রদায় ব্যবসায়ের উদ্দেশ্যে ভারতীয় উপমহাদেশে আগমন করে। তাদের পারস্পরিক বাণিজ্যিক প্রতিযােগিতা এবং শক্তির ভারসাম্য রক্ষা করতে না পেরে অনেকেই উপমহাদেশ ছেড়ে স্বদেশে প্রত্যাবর্তন করে । কিন্তু ইংরেজ ও ফরাসি বণিকগণ দেশীয় রাজন্যবর্গের বাজনৈতিক সযোগ নিয়ে ভারতীয় রাজনীতিতে হস্তক্ষেপ শুরু করলে উপমহাদেশে ইঙ্গ -ফরাসি সংঘর্ষ শতাব্দীতে মুঘল শাসনের অবনতির সাথে সাথে ভারতীয় উপমহাদেশের রাজনৈতিক জটিল আকার ধারণ করে। প্রথমত, মুঘল সাম্রাজ্যের দুর্বলতার সুযােগে দাক্ষিণাত্যের অবস্থা শাসনকর্তা আসফ-জা-নিজামউল মূলক স্বাধীনতা ঘোষণা করে স্বাধীনভাবে দেশ শাসন করতে থাকেন।দ্বিতীয়ত দাক্ষিণাত্যের মারাঠাগণ বা জীরাও-এর নেতৃত্বে নিজামের প্রভৃত্বকে অস্বীকার করলে উভয়ের মধ্যে যুদ্ধের সূত্রপাত ঘটে। তৃতীয়ত, কর্ণাট নিজামের শাসনাধীন দাক্ষিণাত্যের একটি প্রদেশ 'নবাব' নামে একজন শাসক কর্তৃক শাসিত হতাে। কিন্তু নবাব উপাধিধারী কর্ণাটের শাসনকক্তা নিজামের প্রভৃত্বকে অস্বীকার করে স্বাধীনভাবে দেশ শাসন করতে থাকেন। কর্ণাটের রাজধানী ছিল আরেকটি। কর্ণাটের রাজনৈতিক বিশৃঙ্খলা এবং নিজাম ও মারাঠা সংঘর্ষের সুযােগ গ্রহণ করে। দাক্ষিণাত্যে ইংরেজ ও ফরাসি বণিকগণ নিজ নিজ অবস্থানকে অধিকতর শক্তিশালী করে তােলে। এরূপ গােলযােগপূর্ণ আবহাওয়ার মধ্যে মারাঠা কিংবা নিজামের পক্ষে দাক্ষিণাত্যের অবস্থানরত বিদেশি বণিক সম্প্রদায়ের দুরভিসন্ধিমূলক কার্যকলাপ এবং তৎ্পরতা বন্ধ করা স্তব হয়নি। চতু্র্থত, অষ্টাদশ শতাব্দীর মধ্যভাগে দেশীয় রাজন্যবর্গের রাজনৈতিক অরাজকতা ও বিশৃঙ্খলার সুযােগ গ্রহণ করে ইংরেজ ও ফরাসি বণিকগণ মাদ্রাজ ও পগিচেরীতে তাদের শক্তি বৃদ্ধি করে। মাদ্রাজ ছাড়ও পণিচেরীর দক্ষিণে ইংরেজদের সন্ট ডেভিড নামে একটি শক্তিশালী দুর্গ ছিল। এ দুর্গগুলেো সমু্র উপকূলে অবস্থিত হওয়ায়, বিদেশি বণিক সমপ্প্রদায়ের নিরাপত্তা নির্ভর করতাে সামুদ্রিক প্রাধান্যের ওপর। অন্যদিকে দেশীয় শাসকবর্গের শক্তিশালী নৌবহর না থাকায় নৌশক্তির দিক দিয়ে ইংরেজ এবং ফরাসিগণ সমুদ্রে সর্বসর্বা হয়ে ওঠেন। ফলে তাদের নৌশক্তি এবং সামুদ্রিক কর্তৃত্ব এবং সর্বোপরি দেশীয় শাসকবর্গের দুর্বলতার সুযোেগে পরস্পর ভিন্নপক্ষে সমর্থন উপমহাদেশে ইঙ্গ-ফরাসি সংঘর্ষের অন্যতম কারণ পঞ্চমত, কর্ণাট ফরাসিগণ নিজ নিজ কর্তৃত্ব অটুট রাখার জন্যই দুই বিপক্ষ দলকে সমর্থন করে। ফলে দাক্ষিণাত্য হায়দারাবাদের সিংহাসনে উত্তরাবিকার সংক্রান্ত বিরােধ দেথা দিলে ইংরেজ ও ইঙ্গ-ফরাসি সংঘাত অনিবার্য হয়ে পড়ে।

সম্পর্কিত প্রশ্নগুচ্ছ

1 উত্তর
1 উত্তর
1 উত্তর
28 নভেম্বর 2021 "পড়াশোনা" বিভাগে জিজ্ঞাসা করেছেন Md. Redowan lslam
1 উত্তর
1 উত্তর
27 নভেম্বর 2021 "পড়াশোনা" বিভাগে জিজ্ঞাসা করেছেন Md. Redowan lslam
অ্যান্সগুরু বাংলা ভাষায় সমস্যা সমাধানের একটি অনলাইন কমিউনিটি। এখানে আপনি প্রশ্ন করতে পারবেন এবং অন্যদের প্রশ্নে উত্তর প্রদান করতে পারবেন ৷ আর অনলাইনে বিভিন্ন সমস্যার সমাধানের জন্য উন্মুক্ত তথ্যভাণ্ডার গড়ে তোলার কাজে অবদান রাখতে পারবেন ৷

1,381 টি প্রশ্ন

1,164 টি উত্তর

5 টি মন্তব্য

50,732 জন সদস্য

6 Online Users
5 Member 1 Guest
Today Visits : 3898
Yesterday Visits : 9030
Total Visits : 337436
...