সাহিত্যে মুসলিম মনীষীদের অবদান আলোচনা করো? - অ্যান্সগুরু
18 বার প্রদর্শিত
"পড়াশোনা" বিভাগে করেছেন

এই প্রশ্নটির উত্তর দিতে দয়া করে প্রবেশ কিংবা নিবন্ধন করুন ।

1 উত্তর

0 পছন্দ 0 জনের অপছন্দ
করেছেন
শিক্ষার অন্যান্য শাখার মতাে সাহিত্যেও মুসলিমগণ অনন্য অবদান রেখে গেছেন। আল্লাহর কালাম কুরআন মাজিদ এক অতুলনীয় ও অপ্রতিদ্বন্দ্বী সাহিত্য। সমস্ত কবি-সাহিত্যিক মিলেও কুরআনের একটি সূরা বা একটি আয়াতেরও মােকাবিলা করতে সক্ষম হয়নি। কুরআন নাযিলের প্রভাবে অশ্লীল কাব্যচর্চা বন্ধ হয়ে যায়। শুরু হয় মার্জিত ও রুচিসম্মত কাব্যচর্চা। হাদিস শাস্ত্র উঁচু মানের সাহিত্য। রাসুল (সা.) সাহিত্যের সরদার ছিলেন। তিনি কবি-সাহিত্যকদের পৃষ্ঠপোষকতা ও পুরস্কৃত করে উৎসাহিত করতেন। প্রতিভাবলে কবি হাসসান হবন সাবিত (রা.) তাঁরই পৃষ্ঠপােষকতায় ধন্য হয়েছিলেন। চতুর্থ খলিফা হযরত আলী (রা.) একজন সুপণ্ডিত, সুবক্তা, সুলেখক ও সুকবি ছিলেন। তাঁর রচিত "নাহজুল বালাগা' ও 'দীওয়ান-ই-আলী খুবই প্রসিদ্ধ। খলিফা মানসুর যেমন জ্ঞানবিজ্ঞানের পৃষ্ঠপােষক ছিলেন, তেমনি তিনি একজন কাব্য রসিকও ছিলেন। তাঁরই পৃষ্ঠপােষকতা ও প্রচেষ্টায় প্রাচীন আরবি কবিতাগুলা গ্রন্থ আকারে লিপিবদ্ধ করা হয়। উমাইয়া খলিফাগণও সাহিত্যর পৃষ্ঠপাষক ছিলেন। উমাইয়া যুগের চারণ কবিদের মধ্যে জারীর, ফারাযদাক ও আখতাল ছিলেন বিখ্যাত। জারীর ও ফাররায়দাক পরস্পর প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন এবং ব্যঙ্গরসাত্মক কবিতা রচনায় পরবর্তী খলিফা হারুনুর রশীদও একজন কবি ছিলেন। তাঁর সময়ই বিখ্যাত আরব্যোপন্যাস গায়লা (হাজার ও এক রজনী) গ্রস্থানা রচিত হয়েছিল। সানাই, সাত্তার, রুমী, জামী, ইবনল সাহিত্যিকগণ কাব্য-সাহিত্যকে সমদ্ধ করেছিলেন। নীতিবিশারদ সুফি কবি শেখ সাদীর দানও অপরিসীম। হস্পাহানের কবি আবুল ফারাজ (৮৯৭-৯৬৭ খ্রি,) তাঁর সংকলিত "কিতাবুল আগানী তে অনেক ঘটিয়েছেন। এর বিশটি খণ্ড আরবি কবিতার প্রাচুর্যের কথাই প্রমাণ করে। সাইফুদ্দৌলা হামাদা তাকে এক হাজার স্বর্ণমুদ্রা পুরস্কার দিয়েছিলেন। বুওয়ায়াহী উযীর সাহিব 'ইবন আববাদ করতেন সবচেয়ে বেশি। তখন আরব কবিদের অগ্রণী ছিলেন আহমােদ ইবন হুসাইন আল মাআররি, কবি রুগগি থেকে আরবি কবিতার সত্যিকার পরিস্কুটন শুরু হয়। লেখকদের মধ্যে বদিউজ্জামান হামাদানী, সালবি ও হারিরীও ছিলেন বিখ্যাত। হামাদানী নাট বলার "মাকামা নামক ছন্দময় গদ্যের প্রবর্তন করেন। হারিরী ও তাঁর (যমাকামা রচনায় হামাদানীর ও পারস্যের মুসলিম নরপতিগণও সাহিত্যের উৎকর্ষ সাধনে বিশেষ অবদান রেখেছিলেন। পারদে গজনীর সুলতান মাহমুদ প্রমুখ স্ব-স্ব রাজধানীকে সাহিত্য ও জ্ঞান-বিজ্ঞানের পাদপীঠে পরিণত মুলকের ন্যায় লেখক ও ওমর খাইয়ামের ন্যায় কবি মাখিক শাহর রাজধানী খােরাসানকে সা পরিণত করেছিলেন। সুলতান মাহমুদের সভাকরি ফেরদৌসীর নামও জগদিখ্যাত। পারস্য সাহি় লালিত্য এতই চিত্তাকর্ষক যে দুর্বুন্ত তাতারগণও এতে মুদ্ধ না হয়ে থাকতে পারেনি। মহাতেজা হাতেও একদিন কবি হাফিযের জন্য আশী্বাদের খেলাত ও অগণিত মণিমুক্তা উঠেছিল। প্রসিদ্ধ। যখন কনস্টান্টিনােপল জয় করেন, তখন তাঁর বিজয়ােন্মত্তার ভিতরও তিনি মহাকবি জামীর কবি ভুলেননি। হাফিযের রচনাই পারস্যের আদর্শ সাহিত্য বলে ধরে নেওয়া যেতে পারে। দ্বাদশ শতা নিযামী এবং ত্রয়ােদশ ও চতুর্দশ শ্তাব্দীর শেখ সাদী এবং মাওলানা রুমী এরা প্রত্যেকেই অত্য চিত্তাকর্ষক কাব্য রচনা করেছিলেন, এ সময়ার মধ্যে কুরআন, হাদিস এবং বিবিধ ঐতিহাসিক, দা এ্রস্থ আরবি থেকে ফারসি ভাষায় অনুদিত হয়। পারস্যের জাতীয় সাহিত্যের এ বিকাশ চর্তুদশ শত সময় পূর্ণতা লাভ করে। মহাকবি জামীর ইউসুফ-জুলায়খা পঞ্চদশ শতাব্দীর রচনা। উপমহ ছড়ামণি আমীর খসরুর হাতে কাব্য, সাহিত্য, সুর সংগীতের চরম উৎকর্ষ হয়। ডা ইকবাল, আলাওল, কাজী নজরুল ইসলাম, কায়কোবাদ ও ফররুখ আহমেদ ইসলামি সাহিত্যে মূল্যবান অবন এ আলোচনা থেকে আমরা সহজেই অনুমান করতে পারি সাহিত্যে মুসলমানদের অবদান কত বিশ্বসাহিত্যের যেকোনাে অগমনে মুসলিম সাহিত্যিকদের অবদান অতুলনীয়।

সম্পর্কিত প্রশ্নগুচ্ছ

1 উত্তর
1 উত্তর
15 ডিসেম্বর 2021 "পড়াশোনা" বিভাগে জিজ্ঞাসা করেছেন Md. Redowan lslam
1 উত্তর
অ্যান্সগুরু বাংলা ভাষায় সমস্যা সমাধানের একটি অনলাইন কমিউনিটি। এখানে আপনি প্রশ্ন করতে পারবেন এবং অন্যদের প্রশ্নে উত্তর প্রদান করতে পারবেন ৷ আর অনলাইনে বিভিন্ন সমস্যার সমাধানের জন্য উন্মুক্ত তথ্যভাণ্ডার গড়ে তোলার কাজে অবদান রাখতে পারবেন ৷

1,381 টি প্রশ্ন

1,164 টি উত্তর

5 টি মন্তব্য

50,649 জন সদস্য

5 Online Users
4 Member 1 Guest
Today Visits : 3728
Yesterday Visits : 9030
Total Visits : 337266
...