দর্শন শাস্ত্রে মুসলিম মনীষীদের অবদান সম্পর্কে আলোচনা করো? - অ্যান্সগুরু
16 বার প্রদর্শিত
"পড়াশোনা" বিভাগে করেছেন

এই প্রশ্নটির উত্তর দিতে দয়া করে প্রবেশ কিংবা নিবন্ধন করুন ।

1 উত্তর

0 পছন্দ 0 জনের অপছন্দ
করেছেন
অনানুশীল ও সত্যানুসন্ধানই হলাে দ্শন। সৃষ্টিকর্তা ও সৃষ্টজীব সম্পর্কে ইসলামের একটি নিজ সুতিহ্বাসের অন্যান্য জাতির ন্যায় মুসলমানরাও যুগ যুগ ধরে এক বিশেষ পঙ্খতিতে তাদের মিলনের চেষ্টায় নিয়ােজিত ছিলেন। দর্শন বলতে বােঝায় সত্যে উপনীত হওয়ার যৌক্তিক পদ্ধতি। প্রকৃতির সাথে পরিচালিত করে সত্যে উপনীত হতে সাহায্য করে। সৃষ্টিকর্তার উদ্দেশ্য পরিচালিত হয়ে প্রকৃতির চর্চাকেই দর্শন বলে। এ সঙ্গানুযায়ী ইসলামি দর্শনই প্রকৃত দর্শন। সষ্টিকর্তা আল্লাহ সত্ত্বা সম্পর্কে ব্যাপক জানলাভই ইসলামি দর্শনের মুখ্য উদ্দেশ্য। ইসলামি দর্শনের সষ্টির শ্রেষ্ঠ জীব হলো মানুষ। মুসলিম জাহানের দার্শনিকদের দুই অংশে বিভক্ত করা যায়। উদারপন্থি দার্শনিক ও গাঁড়াপস্থি দার্শনিক। কুরআন আপেক্ষা গ্রিক দর্শনের ঘরোয়া যারা অধিকতর প্রভাবিত হয়েছিলেন, তাঁরা উদারপস্থি বা এরিস্টটলীয় সানি পরিচিত। এ দলে আছেন আল কিন্দি, ফারাবী, ইবনে সিনা, ইবনে রশদ, ইবনে তুফায়েল প্রমুখ দাশনিক কুরআন-হাদিসের শিক্ষা দ্বারা যাঁরা প্রভাবিত হয়েছিলেন এবং যাঁরা গ্রিক দর্শনের অনুপ্রবেশের বিরোধিতা করতেন তাঁদের বলা হয় বনেদি বা ইসলামি দার্শনিক। হযরত আলী (রা.), আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.), ইমাম জাফর সাদেক, ইমাম আল-রাযী, ইমাম গাযালী (র.) প্রমুখ মনী ইসলামি দার্শনিক হিসেবে খ্যাত।

আল কিন্দি (৮১৩ - ৮৭৩ খ্রি.) : আল কিন্দি ছিলেন একজন অসাধারণ ব্যক্তি। তত্কালীন সময়ের সকল প্রকার দার্শনিক নামে আন-বিজ্ঞান, চিন্তা, ভাবধারাকে তিনি আয়ত্ত করেছিলেন। তিনি ছিলেন শ্রেষ্ঠ দার্শনিক, গণিতবিদ, ভৌগােলিক, ইতিহাসবিদ, ভাষাত্রুটিবিদ ও চিকিৎসক। আরবি, সংস্কৃত, পাহলবী ও গ্রিক ভাষয় তাঁর পা্ত্য ছিল। তিনি বিভিন্ন বিষয়ের ওপর কমপক্ষে ৩৬৯ খানা গ্রন্থ রাচনা করেন। মুসলিম চিন্তাধ্যরি বিকাশে বিরাট অবদানের জন্য আল কিন্দিকে মুসজলিম ফালাসাফার জনক বলা হয়।

আল ফারাবী (৮৭০ -৯৫০ খ্রি.) : গ্রিক দর্শনের সামঞ্জস্য বিধানের যে ধারা শুরু করেছিলেন আল কিন্দি, তাকে সমৃদ্ধ করেন আবু নসর মুহাম্মাদ আল ফারাবী (৮৭০ জন্ম)। আল ফারাবী মুসলিম বিশ্বের একজন শ্রেষ্ঠ মৌলিক চিস্তাবিদ ছিলেন। আল ফারাবী বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী ছিলেন। তত্কালীন সমিয়ে প্রচলিত সকল জ্ঞান-বিজ্ঞানে তাঁর অগাধ পাত্তিত্য ছিল। তিনি একজন শ্রেষ্ঠ দাশনিক, গণিতবিদ, জতির্বিদ, পদার্থবিদ ও রসায়নবিদ এমনকি সঙ্গীত্ঞও ছিলেন। তাঁর সম্পর্কে বলা হয়, তিনি তত্কালীন বিশ্বেরে প্রায় প্রত্যেকটি ভাষায় পত্তিত ছিলেন এবং আনুমানিক সত্তরটি ভাষায় কথা বলতে পারতেন। বিভিন্ন বির্ষয়োর ওপর ফারাবী প্রায় শতাধিক গ্রন্থ রচনা করেন। এগুলাের মধ্যে প্রায় পথচাশটিতে তিনি নানা বিষয়ের ব্যা্যী দিয়েছেন এবং বাকি গ্রন্থুগলো তাঁর মৌলিক রচনা। ফারাবীর মতে, দর্শনের ক্ষেত্রে আরা্ত্ (এরিস্টল) ও আফলাতুন (প্লেটো) উভয়ই সর্বাচ্চ পাপ্তিত্যের অধিকারী ছিলেন। আরান্ত সম্পর্কে ফারাবীর পাত্তর্তায এবং দর্শন ও যুক্তিবিদ্যার সকল ক্ষেত্রে তাঁর অগাধ জ্ঞানের জন্য তিনি দ্বিতীয় আরাস্তু বা দ্বিতীয় এরিস্ট্টুল নামে অভিহিত হয়েস্ছেন ইবনে সিনা (৯৮০ - ১০৩৭ খ্রি.) । আবু আলী আল-হুসাইন ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে সিনা ইসলামের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ও মৌলিক চিন্তাবিদ ছিলেন। ইবনে সিনা অথবা আবিসিনা নামে তিনি অধিক পরিচিত ইবনে সিনা অসামান্য প্রতিভাশালী ব্যক্তিত্ব। তিনি ছিলেন দা্নিক, গণিতজঞ, ভাষাতত্রবিদ, চিকিৎ্সক ও কবি। হখনে সিনার জীবনস্রোত অসংখ্য ঘাত-প্রতিঘাতের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়েছিল। এ বৈচত্র্য় কষকর জীবন স্েও তিনি সর্বদাই আঞানের অস্বেষণ করেছেন। তাঁর রচিত ১২৫টি গ্রস্থের মধ্যে নিমোক্তগুলাে বিশেষভাবে বিখ্যাতঃ

১। কিতাব অআশ-শিফা-দর্শনের একটি বৃহৎ বিশ্বকোষ। এটি ছিল ১৮ খণ্ডবিশিষ্ট।

২। কানুন ফিত তিক- চিকিৎসাবিদ্যার স্ষেত্রে এটি ছিল মধ্যযুগের ইউরোপে একটি মাণিক গ্রন্থ।

৩। সাদিদীয়া-চিকিৎসা শাস্ত্র সম্পর্কিত গ্রস্থ।

৪। উয়ুনুল হিকমাত- দর্শনশান্ত্রের ওপর দশ খণ্ডের গ্রন্থ।

৫। দানেশনামা - দর্শন সম্পর্কিত গ্রস্থ।

তবে তাঁর শ্রেষ্ঠ অবদান হলো 'শিফা ওকন্নন'। ইবনে সিনা ছিলেন বহমুনখী প্রতিভার অধিকারী। তাঁকে অনতিক্রম্য শেখ বা দার্শনিকদের প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যে বহু শতাব্দী যাবৎ দাশনিক ও চিকিসক হিসেবে তাঁর সুখ্যাতি ছিল। ইবান চিকিৎসক, দাশনিক, বিজ্ঞানী, রাজনীতিক, এমনকি ধর্মতত্তবিদরাও পাঠ করেন। মুসলিম গাযালী (র,) ছাড়া অন্য কারও রচনাবলি এত অধিক পঠিত হয়নি। ইমাম গাযালী (র.) (১০৫৮ - ১১১১ খ্রি) : মুসলিম বিশ্বের আর একজন শ্রেষ্ঠ দাশনিক ছিলে মুহাম্মাদ ইবনে মুহাম্মাদ আল গাযালী (র,)। ইসলামি ভাবধারায় অনুপ্রাণিত হয়ে যে সমস্ত দাশ মতবাদের প্রবক্তা থাকলেও পরবর্তী জীবনে সুফি মতবাদকেই সত্যিকার পথ বলে গ্রহণ করেন। ি মৌলিক চিন্তার অধিকারী। মুসলিম সমাজের সকল আধ্যাত্মিক সাধনাকে তিনি তাঁর চিন্তাধারায় করেছিলেন। মুসলিম জাহানের এ প্রখ্যাত দার্শনিক ১০৫৮ খ্রিষ্টাব্দে (৪৫০ হি.) ইরানের তুস নগরে জনুযম ইমাম গাযালী (র,) সম্ভবত বিশ বছর বয়সে লেখা শুরু করেন। তাঁর জীবনের এগার বছর মরুভূমি অতিবাহিত হয়। তিনি প্রায় চার শত গ্রন্থ রচনা করেন। তাঁর উল্লেখযাগ্য গ্রস্থগুলাে হলো ১, এ উলমুনদ্দীন, ২. তাহফাতুল ফালাসিফাহ, ৩,. কিমিয়ায়ে সাআদা্ত, ৪. এমলাউ আলা মুশকিলিল ৫ আরবাইন, ৬. আসমাউল হুস্না, ৭. এলযামুল আওয়াম, ৮ আলএকতেসাদ ফিল এতেকাদ, ৯, 3 মুআমালাতিষ্দীন, ১০, আসররু আনওয়ারিল এলাহিয়াহ বিল আয়াত। তােহাফাত-উল-ফালাসিফাহ ইমাম গাযালীর (র.) আরও একটি উৎকৃষ্ট গ্রন্থ। তিনি পাশ্চাত্য দার্শনিকদের। মতামতকে এ গ্রস্থে ভ্রান্ত বলে প্রমাণিত করেন( তাঁর মতে, দাশনিকগণ জড়বাদী (Materialists), অবিশ্বাসী নান্তিক (Deists) ও আন্তিক বা একত্রাদে বিশ্বাসী- এ তিন শ্রেণিতে বিভক্ত। জড়বাদীদের মতে, বস্ধু চিরন্তন এবং এটি যা্র্রক পদ্ধতিতে সহজাত নিয়মেই পরিচালিত হচ্ছে। ইমাম ধারণা গ্রহণ করেননি। তিনি একটি অপরিহার্য বাস্তবতা বলে বিশ্বাস করতেন। উপরিল্লিখিত দার্শনিকগণ ব্যতীত আরও বহু দার্শনিক রয়েছেন, যাঁরা মুসলিম দর্শনের বিশেষ অবদান রেখেছেন।

সম্পর্কিত প্রশ্নগুচ্ছ

1 উত্তর
15 ডিসেম্বর 2021 "পড়াশোনা" বিভাগে জিজ্ঞাসা করেছেন Md. Redowan lslam
1 উত্তর
1 উত্তর
অ্যান্সগুরু বাংলা ভাষায় সমস্যা সমাধানের একটি অনলাইন কমিউনিটি। এখানে আপনি প্রশ্ন করতে পারবেন এবং অন্যদের প্রশ্নে উত্তর প্রদান করতে পারবেন ৷ আর অনলাইনে বিভিন্ন সমস্যার সমাধানের জন্য উন্মুক্ত তথ্যভাণ্ডার গড়ে তোলার কাজে অবদান রাখতে পারবেন ৷

1,381 টি প্রশ্ন

1,164 টি উত্তর

5 টি মন্তব্য

50,646 জন সদস্য

10 Online Users
7 Member 3 Guest
Today Visits : 3723
Yesterday Visits : 9030
Total Visits : 337261
...