শিক্ষাক্ষেত্রে মুসলিম মনীষীদের অবদান জানতে চাই? - অ্যান্সগুরু
26 বার প্রদর্শিত
"পড়াশোনা" বিভাগে করেছেন

এই প্রশ্নটির উত্তর দিতে দয়া করে প্রবেশ কিংবা নিবন্ধন করুন ।

1 উত্তর

0 পছন্দ 0 জনের অপছন্দ
করেছেন
ইসলামের আবির্ভাব বিশ্ব ইতিহাসে এক যুগান্তকারী ঘটনা। মানবসভ্যতা বিকাশের ক্ষেত্রে এটি একটি জীবন্ত শক্তি হিসেবে কাজ করেছিল। ইসলামি শিক্ষার প্রতি সবচেয়ে বেশি গরুত্ব আরােপ করে থাকে। পবিত্র কুরআন ও হাদিস থেকে শিক্ষায় অনুপ্রেরণা পেয়ে মুসলিম জাতি জ্ঞান-বিজ্ঞানচর্চায় এবং শিক্ষা ও জ্ঞান-বিজ্ঞানের উন্নয়ন ও বিস্তারে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করে। এভাবে মুসলিমগণ সমগ্র বিশ্বের আলােকবর্তিকার আবির্ভূত হয়। শিক্ষায় মহানবি (সা.) থেকে শুরু করে আব্বাসি শাসকগণ অসামান্য অবদান রেখেছেন। সাহিত্যে শেখ সাদী ও ওমর মেয়াম, দর্শন শান্ত্রে আল কিন্দি ও ইবনে সিনা, রসায়নে জাবির ইবনে হাইয়্যান, পদার্থবিজ্ঞানে হাসান ইবনে থয়সাম, জ্যাতির্বিদ্যায় উমর খাইয়্যাম ও আল বাগনী চিকিৎ্সাশান্ত্র আল রাযি ও ইবনে সিনা এবং ভূগােল শান্তে আল খারিযমির অবদান সর্বাধিক উল্লেখযােগ্য। মিহানবি (সা.)-এর সময়কাল ইআান মাজিদ ও হাদিস শরীফের বাণীতেই শুধু শিক্ষার প্রতি গুরুতব আরােপ করা হয়নি। শিক্ষা বিস্তারের জন্য নাব (সা) কতকগুলাে বাস্তব ও কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছিলেন। ইসলামের একেবারে প্রাথমিক যুগেই মক্কায় হযরত আরকাম (র.)-এর বাড়িতে "দারুল আরকাম নামে একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছিলেন।

তখনই তাদের শিক্ষা দেওয়ার জন্য সাহাবিদের শিক্ষক হিসেবে পাঠাতেন। মসজিদে নববি সংলগ্ন স্থানে 'সুফফা' নামে গড়ে তােলেন। কুফা, বসরা, সিরিয়া, মিসর, রোম, পারস্য প্রভৃতি স্থান থেকে আগত শিক্ষাধ"ণি ভিড় জমাতেন। মহানবি (সা.) শিক্ষা বিস্তারের জন্য ইসলামি রা্র বিভিন্ন অঞ্চলে সাহাবিদের পহা এখানে নওযুসলিমগণ গােপনে শিক্ষা গ্রহণ করতেনএছাড়া যহ্নই কোনা গোতের কেক ্তের ইস পর ম নিরক্ষরতা দূরীকরণ ও শিক্ষা বিস্তারে এত গুরুত্ব দিতেন যে, বদরের শিক্ষিত যুদ্ধবন্দীদের কহ করেছিলেন কয়েকজন নিরক্ষর মুসলিমকে শিক্ষিত করে তোলা। রাসুল (সা.)-এর ইনতিকালের উজ্জীবিত সাহাবিগণ (রা.) শিক্ষা ও জ্ঞান-বিজ্ঞানচর্চাকে আরও মহিমামত্তিত করে তােলেন। আলােকবর্তিকা হাতে নিয়ে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েন। প্রতিষ্ঠা করেন অসংখ্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠা ও গ্রন্থাগার। মহানবি (সা.)-এর জীবদ্দশাতেই শিক্ষা ব্যবস্থার যে সূচনা হয়েছিল, তাই কায়রাে এবং কর্ডোভায় বিশ্ববিদ্যালয়ের রূপপরিগ্রহ করেছিল। খুলাফায়ে রাশেদিনের আমল খুলাফায়ে রাশেদিনের সময় অত্যন্ত গুরুত্ের সাথে কুরআন মাজিদ সংকলিত হয়। হযরত আবু বকর (রা.) শুরু করে হযরত আলী (রা.) পর্যন্ত সবাই এ ব্যাপারে ভূমিকা রেখেছেন। এ সময় রাষ্ট্রীয়ভাবে ইসলাম সাথে সাথে শিক্ষাবিস্তারের জন্যও ব্যবস্থা করেছিলেন। বেোথাও সেনাবাহিনী প্রেরণের সময় সেনাপ্রধা थ করা হতাে শিখ্ষিত অভিজ্ নিষ্ঠাবান ব্যক্তিকে। তারা বিভিন্ন অঞ্চলে শিক্ষাদানে ব্যাপিত হতেন। রাজ্যের বিভিন্ন অঞ্চলে লােকদেরকে শিক্ষিত করে গড়ে তােলার জন্য মক্তব ও মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা শিক্ষাদানের জন্য উপযুক্ত শিক্ষক নিয়ােগ করতেন এবং বায়তুল মাল থেকে তাদের বেতনভাতা দিভেন। উমাইয়া খলিফা উমার ইবন আব্দুল আষিজের সময় সরকারিভাবে হাদিস সংকলন করা হয় এবং এ শ্রেহাম উৎকর্ষ হয়। এ সময় ধর্মীয় আইন্কানুন সম্পর্কিত গ্রস্থাদি প্রণীত হয়। ববর উমাইয়া আমল শিক্ষাকেন্দ্র স্থাপন সম্রাজ্টের বিভিন্ন অথ্যলে হাদিস চর্চা ও শিক্ষাকেন্দ্র গড়ে ওঠে।

১. শিক্ষাকেন্দ্রে জ্ঞানের বিভিন্নি শাখায় শিক্ষা গ্রহণ করে। দামেস্ক, কুফা, বসরা, মন্কা, মদিনা প্র্র শিক্ষাকেন্দ্রলাো ছিল প্রবল বিশাল। সেখানে হাজার হাজার শিক্ষার্থী শিক্ষালাভের জন্য দূর-দূরান্ত থেকে আসে।

২. ফিকহ সম্পাদনী : উমাইয়া খিলাযত আমলে ফিকৃহ চর্চা ও সম্পাদনার কাজ সুচারুরপে ল এসময়ে ইসলামের ধর্মীয় আাইনকানুন প্রণীত হয়।

৩. বিজ্ঞানের অন্যান্য শাখা ঃ উমাইয়া খলিফাদের পৃষ্ঠপাষকতায় বিজ্ঞান ও সংস্কৃতির অনেক গশশ খলিফাদের পৃষ্ঠপােষকতায় বিজ্ঞানবিষয়ক অনেক বইপুস্তক আরবিতে অনুদিত হয়। জ্যোতা তত্ত, চিকিৎসাশাস্ত্র, বীজগণিত, নৌ চালনা, ভূগোল প্রভৃতি বিষয়ের উন্নতির সূচনা করে উমাহ শিক্ষাক্ষেত্রে আব্বাসীয় খলিফাদের অবদান চিরস্মরণীয় হয়ে আছে, তাঁদের মধ্যে আল মানসুর, হবন ইলেন আল মামুনের নামই প্রথমে আসে। আল মানসুরের রাজত্বকালে (৭৫৪-৭৭৫ খ্রি.) জঞান-বিজ্ঞানেবে্ত, চর্চ ও গবেষণার দ্বারা প্রভৃত উত্কর্ষ সাধিত হয়। খলিফা নিজেও কাব্য রসিক ছিলেন এবং ল কবিতাসমুহ পুস্তকাকারে লিপিবন্ধ করেন। কুরআন মাজিদের ব্যাখ্যা ও প্রাসঙ্িক টীকা টিপন্নী অআ পাে এবং হাদিস অথবা রাসুলে কারিমের (সা.) বাণী সংকলনের ব্যবস্থা তাঁর আমলেই করা সনসর নিজেও একজন সুপণ্ডিত ছিলেন। আল মানসুরের পৃষ্ঠপােষকতায় আরবগণ হয়। সম্পদ আহরণ করে আসায় শিক্ষা সংস্কৃতির স্বণযুগের সুচনা করেন।

আল-মানসুরের পরে হারুনুর রশীদ খলিফা হন। তিনি শিক্ষাদীক্ষা ও গলিফা আল মানসুরের আমলে গ্রিক ও সংস্কৃত পুস্তকের যে আরবি অনুবাদ ব্যাপকতা লাভ করে বিজ্ঞানে অসামান্য অবদান রেখে হারুনুর রশীদের সময় তা পূর্ণতা লাভ করে। তার সময়ই বায়তুল হিকমা নামে একটি নেতা হযেছিল। প্রতিষ্ঠানটির বহুমুখী কাজের জন্য এটি বায়তুল হিকরমা দারুল ইলম এবং মিজানুল হিকমা নামে পরিচিত ছিল। খলিফা আবদুল্লাহ আল মামুনের পৃষ্ঠপাষকতায় বাগদাদে 'বায়তুन হিকমা' নামক প্রতিষ্ঠানটি পূর্ণতা লাভ করে। এটি একাধারে একটি পূর্ণাঙ্গ গবেষণাগার, গ্রন্থাগার, অনুবাদাগার ও জ্ঞাম-বিজ্ঞানের মানমন্দির ছিল। এটি একটি শিক্ষা সংস্থা ছিল। এতে পাবলিক লাই্রেরিও ছিল। কথিত আছে, খলিফা মামুন একমাত্র গ্রিক রচনাবলি অনুবাদ করতেই তখনকার দিনে তিন লাখ দিনার ব্যয় করেছিলেন। তিনি রাট্ট্রের সর্বত্র শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছিলেন। এগুলাের ব্যয়ভার নির্বাহের জন্য উদারভাবে অর্থ ও লাখেরােজ জমি বরাদ্দ করেন। ৭১২ খ্রি. মুসলমানগণ যখন সমরকন্দ জয় করেন, তখন তারা চীনাদের থেকে কাগজ্জ তৈরির পদ্ধতি আয়ত্ত করেন। তাই ৭৯৪ খ্রিষ্ঠাব্দে বাগদাদে কাগজ প্রস্তুতের কারখানা নির্মিত হয়।এতে পুস্তক প্রস্ততের কাজ অনেক সহজ হয়। কথিত আছে, ৮৯১ খ্রিষ্টাব্দে বাগদাদেই শতাধিক পুস্তক বিক্রয়কেন্দ্র বিদ্যমান ছিল। অবশ্য তখনকার গ্রন্থগুলা সবই হাতে লেখা ছিল। পেশাদার কাতিব ও শিক্ষাথীরা এ কাজেনিয়ােজিত হতেন। তাদের উপযুক্ত সম্মানী দেওয়া হতো। শহরে, নগরে ও অধিকাংশ মসজিদে গড়ে উঠল পাঠাগার। অনেক লাইব্রেরিতে গ্রন্থাগারিকদের বৃত্তি প্রদানের ব্যবস্থা ছিল। ভূগােলবিদ ইয়াকৃত মার্ভ ও খাওয়ারিযমের লাইব্রেরিতে পাণুলিপির তথ্য বিন্যাসে নিয়ােজিত ছিলেন তিন বছর ধরে। ৯৮৭ খ্রিষ্টাব্দে মুহাম্মদ আল-নাদিম আরবি ভাষায় জ্ঞানের যেকোনাে শাখায় মুল অথবা অনুবাদ হিসেবে রচিত সব পুস্তকের এক বিবরণ তালিকা প্র্তত করেন-যার মধ্য রয়েছে প্রতিটি লেখকের জীবন বৃত্তান্ত ও রচনার মূল্যায়ন। মুহাম্মদ বিন জাবির আল তাবারি (৮৩৮-৯২৩ ব্রি)তারিখুল উমামি ওয়াল মুলক শিরােনামে একটি বিরাটাকার বিবরণী রচনা করেন। এর বিষয়বস্তুর ব্যাপ্তিকৃলি সৃष्টির শুরু থেকে ৯১৩ খ্রিষ্টান্দ পর্যন্ত। এ বিবরণীর ১৫টি খণ্ড আজও বিদ্যমান। বলা হয়ে থাকে যে, পুরাো বিবরণীটি ছিল এর প্রায় দশগুণ আকারের। সেলজুক শাসনামল সেলজুক সুলভার্ন, আলপ আরসালান ও মালিকশাহর রাজত্বকালে বিদ্যোৎসাহী মন্ত্রী নিযামুল মুলক কর্তৃক বিখ্যাত নিযামিয়া মাদ্রার্সা প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। বিখ্যাত দা্শনিক ইমাম গাযালী '১০৮১-১০৮৫' খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত এ মাদ্রাসার অধ্যক্ষের পদ পালন করেছিলেন।

সম্পর্কিত প্রশ্নগুচ্ছ

1 উত্তর
15 ডিসেম্বর 2021 "পড়াশোনা" বিভাগে জিজ্ঞাসা করেছেন Md. Redowan lslam
1 উত্তর
25 নভেম্বর 2021 "পড়াশোনা" বিভাগে জিজ্ঞাসা করেছেন Md. Redowan lslam
অ্যান্সগুরু বাংলা ভাষায় সমস্যা সমাধানের একটি অনলাইন কমিউনিটি। এখানে আপনি প্রশ্ন করতে পারবেন এবং অন্যদের প্রশ্নে উত্তর প্রদান করতে পারবেন ৷ আর অনলাইনে বিভিন্ন সমস্যার সমাধানের জন্য উন্মুক্ত তথ্যভাণ্ডার গড়ে তোলার কাজে অবদান রাখতে পারবেন ৷

1,381 টি প্রশ্ন

1,164 টি উত্তর

5 টি মন্তব্য

50,629 জন সদস্য

3 Online Users
2 Member 1 Guest
Today Visits : 3683
Yesterday Visits : 9030
Total Visits : 337221
...