ইসলামি সংস্কৃতির পরিচয় এবং এর গুরুত্ব আলোচনা কর? - অ্যান্সগুরু
21 বার প্রদর্শিত
"ধর্ম ও নৈতিক শিক্ষা" বিভাগে করেছেন

এই প্রশ্নটির উত্তর দিতে দয়া করে প্রবেশ কিংবা নিবন্ধন করুন ।

1 উত্তর

0 পছন্দ 0 জনের অপছন্দ
করেছেন
সংস্কৃতি বলতে সাধারণত মানব মনে উৎকর্ষ সাধন পদ্ধতিকে বােঝায়। একটি জাতির আচার-আচরণ, ব্যবহার, ভাবধারা ও দৃষ্টিভঙিকে তার সংস্কৃতি বলা হয়। মুসলিম জাতির জীবন-আচারই ইসলামি সংস্কৃতি। এটি ইসলামি শাখত জীবন বিধান থেকে উৎসারিত আর ইসলামি অনুশাসনেরই প্রতিফলিত রাপ। সংস্কৃতি শব্দটি সংস্করণ বা সংস্কার বিশেষ্য পদ থেকে গঠিত। সংস্করণ অর্থ বিশােধন,সংশােধন এবং সংস্কার ও কার্য শুদ্ধিকরণ। শা্তরয় নীতিমালা ও অনুষ্ঠানাদি দ্বারা পবিত্রকরণ, শােধনকরণ, পতিত অবস্থা থেকে উদ্ধারকরণ, পরিষ্চার বা নির্মলকরণ, উৎ্কর্ষ সাধন, উন্নতি বিধান। অনুশীলন মবারা লন্ধ বিদ্যাবুদ্ধি, রীতিনীতি ও মা্জিত আচার-আচরণ ইত্যাদির উৎকর্ষতাই হচ্ছে কৃষ্টি বা (Culture) কালচার। এজন্য কৃষ্টিও সংস্কৃতি অর্থে ব্যবহৃত হয়। মানব সমাজের মানসিক বিকাশের অবস্থা, কোনাে জাতির মানসিক বিকাশের অবস্থা, কোনো জাতির বৈশিষ্ট্যসচক শিক্ষা-সাহি্য, বিশ্বাস-সমাজনীতি ইত্যাদি। Culture (কালচার) অর্থ হচ্ছে কর্ষণ করা, চাষ করা। অনুপযুক্ত জমিকে যেমন কর্ষণ করে মসূণ ও ফসল উৎপাদনের উপযােগী করা হয়, তেমনি সদাচরণের কর্ষণ ও অনুশীলন দ্বারা একজন ব্যক্তি বা জাতি পরিশীলিত ও সংস্কৃতিবান হয়। এজন্য চাষকৃত জমিকে cultured Land বলা হয়। তেমনি পরিশীলিত ব্যক্তি বা জাতিকে Caltured man বা Cultured nation বলা হয়।

উর্দু তামাদ্দুন শব্দ দুটোও বাংলা ভাষায় একত্রে সংস্কৃতি অর্থে সংস্কৃতির সংজ্ঞা সভ্য-ভ্র, সজ্জিত ও নন্দিত জীবনকে তাহযিব-তামাদ্দুন বা সংস্কৃতি বলा মাধ্যমেই সফলতা আসে। মার্জিত, আকর্ষণীয় ও সৌন্দর্যমন্তিত মओोनুয়কো মু্যকাফ£ বা সংস ব্যবহয আরবি তাহযীব পরিশীলিত, মার্জিত, সজ্জিত, উন্নত, রুচিসমৃদ্ধ জীবনবােধ ও জীবনাচারকে সংস্কৃতি ও কৃষ্টি বলা সাংবাদিক ও রাজনৈতিক ব্যক্তি আবুল মনছুর আহমেদ, "বাংলাদেশের কালচার গ্রন্থে বলেছেন, পার্সোনালিটি বা ব্যক্তিত্ব, সমষ্টি বা জাতির তেমনি কালাচার বা সংস্কৃতি।" মােটকথা কোনাে জাতির চিন্তাচেতনার বিশেষ গুণান্বিত আঙ্গিকের পরিশীলিত ব্যবহারিক বহিঃপ্রকাশকে সংস্কৃতি বলা হয়। ইউনেস্কোর ১৯৮২ সালে মেক্সিকো সম্মেলনে সংস্কৃতির পরিচয় দিতে গিয়ে ঘােষণা করা হয়- "ব্যাপক সংস্কৃতি একটি জাতির অথবা সামাজিক গােত্রের বিশিষ্টার্থক আত্মিক, বস্তুগত, বুদ্ধিগত এবং আবেগগত চিত্রই কর্মধারার প্রকাশ। শিল্প ও সাহিত্যই সংস্কৃতির অন্তর্ভুক্ত একমাত্র বিষয় নয়। মানুষের জীবনধারাও সংস্কৃতির মানুষের অধিকার, মূল্যবোধ, ঐতিহ্য এবং বিশ্বাসও সংস্কৃতির অঙ্গ।" ইসলামি সংস্কৃতি ইসলাম অনুমোেদিত ও শরিয়ত নির্দেশিত মুসলিম জাতির জীবনপদ্ধতিই হচ্ছে ইসলামি সংস্কৃতি। ইস সংস্কৃতিতে ইসলামী মূল্যবােধসমূহ সক্রিয় থাকবে। তথা সাহিত্য, সংগীত, চলচ্চিত্র, চিত্রকলা, মহাকাব্য ইয়তি ইসলামি ভাবধারায় পরিচায়ক হবে। ইসলামি সংস্কৃতির সংজ্জায় বলা যায়, "ইসলামি জীবনদর্শন ও জীবনবিক অনুশীলনের ফলে মানুষের ব্যবহারিক জীবন ও পরিবেশে যে সংস্কৃতি প্রতিফলিত হয়।

এ সংস্কৃতিতে ইসলামি মূল্যবােধসমূহ স্বাত্মকভাবে প্রতিফলিত হয়ে থাকে। আরও স্পষ্ট করে বলতে জীবনের বিভিন্ন কষেত্রে ইসলামের মূল বিশ্বাসের আলােকে যত নিয়মনীতি, বিধিনিষেধ পালন করতে হয়, আসर ইসলামি সংস্কৃতি। যাকে দ্বীনও বলা হয়। আর এজন্যই আল্লাহ বলেন- "ইসলাম হচ্ছে আল্লাহর নিকট একমাত্র গ্রহণযােগ্য দ্বীন। " (সূরা আর ইমরান : ১৯)।

এটা হচ্ছে ইসলামি সাংস্কৃতিক পদ্ধতির নাম। ইসলামি জীবনচেতনা, মূল্যবােধ ও বি্শ পরিপন্থী কোনাে সংস্কৃতিই মুূসলিম জাতির সংস্কৃতি হতে পারে না। তাই ইসলামি জীবন বিশ্বাসের বি ভাবাদর্শের কোনাে আচার-আচরণ, কৃষ্টি-সংস্কৃতি কোনাে মুসলিম সমাজে দেখা গেলে সাথে সাথে মনীষিগণ সেটিকে অন্য নাম দিয়ে প্রত্যাখ্যান করেছেন। সেগুলােকে "বিদআত" কুসংস্কার বা বিজাতীয় বলে আখ্যায়িত করেছেন এবং তা প্রত্যাখান করেছেন। কাজেই ইসলামি সংস্কৃতি বলতে বুঝি তার মধ্যে প্রথম হলো তাওহিদবাদ তথা মানবজীবনে আল্লাহর একতৃবাদ প্রতিষ্ঠা মানুষের সামাজ , সর্বজনীন ভ্রাতৃত্ব ও সার্বজনীন নীতির প্রবর্তন। বিশ্বাস, চিন্তাধারা, সামাজিক প্রতিষ্ঠান, আইনকানুন। ইসলামের মূল্যবাধ বা ইমান তথা বিশ্বাসই হচছ এ সংস্কৃতির প্রাণ। এ বিষয়ে পবিত্র কুরআনে বলা হয়েছেও আাচার-আচরণ যেগুলাে তাওহিদবাদ ও সার্বজনীন নীতির বিরােধী নয়, তাকে ইসলামি সংস্কৃতি বলে।

ইসলামি সংস্কৃতির বিশালায়তন প্রাসাদকে অক্ষুণ্ন রাখা মুসলিম জতির জন্য অপরিহার্য। ভাম হত্য কলা অচার-আচরণ, উৎসব অনুষ্ঠান সকল ক্ষেত্রেই সাংস্কৃতিক স্বাতন্ত্য বজায় রাখা মুসলমানের জন্য জরুরি। প্রতােক জাতি বা জনগোষ্ঠীর আলাদা আলাদা সংস্কৃতি বা কৃষ্টি রয়েছে। সে সংস্কৃতি ভাষা, পেশা, জীবনযাত্রা ভৌগালিক সীমারেখা ইত্যাদির ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠতে পারে । হিন্দুদের জন্য হিন্দু সংস্কৃতি, অন্য খ্রিষ্টান সংস্কৃতি এবং ইয়াহুদিদের জন্য রয়েছে ইয়াহুদি সংস্কৃতি। আবার আরবদের দেশীয় সংস্কৃতি রয়েছে তেমনি রয়েছে পারসিকদের দেশজ সংস্কৃতি। তেমনিভাবে গােটা মুসলিম জাতির জন্য রয়েছে ইসলামি সংস্কৃতি। যা অপরাপর সংস্কৃতি থেকে সম্পূর্ণ আলাদা এবং সর্বোত্তম শ্রেষ্ঠ সংস্কৃতি। কেননা মুসলিম জাতি হচ্ছে পৃথিবীতে শ্রেষ্ঠ জাতি। স্থাপত্য সংস্কৃতিও সর্বশ্রেষ্ঠ হওয়াই স্বাভাবিক। কাজেই মহানবি (সা.) অপরাপর জাতির সংস্কৃতি গ্রহণ করতে কঠোরভাবে বারণ করেছেন।

বস্তত ইসলামি সংস্কৃতিই শ্রেষ্ঠ। এ সংস্কৃতির প্রত্যয়বাদই দুনিয়ায় উৎকৃষ্ট গুণাবলির মধ্যে সৃষ্ট করে। এর মধ্যে মানুষের কর্মশক্তিকে সুসংহত করার এবং তাকে পরিকল্পিতভাবে ব্যবহার করার মতাে প্রচও শক্তি নিহিত আছে। কাজেই অন্যকোনো জাতির সংস্কৃতি হতে ধার নেওয়ার মতাে এখানে কিছুই নেই। ইসলামি সংস্কৃতির উৎস ইসলামি সংস্কৃতির উৎস হচ্ছে- কুরআন, সুন্নাহ, ইজমা, কিয়াস ওইসতিহসান। এ উৎস সম্পর্কে মহান আল্লাহর ঘােষণা- "রাসুল (সা.) তােমাদের জন্য যা দিয়েছেন তা গ্রহণ কর আর যা নিষেধ করেছেন তা থেকে বিরত থাক।" (সূরা হাশর : ৭)

ইসলামি সংস্কৃতিতে সাধারণ ধর্মীয় মত অনুসারে শুধু একজন উপাস্যের মতাে নয়। বরং দুনিয়াবি নিয়ম অনুসারে তিনি সর্বোচ্চ শাসকও। কুরআন তাঁর আইন গ্রস্থ। তাঁর অনুগত বান্দা মানুষ তারই খিলাফতের উত্তরাধিকারী। তাই ইসলামি সংস্কৃতির মূল উৎস হচ্ছে- কুরআন, সুন্নাহ, ইজমা ও কিয়াস। এসব উপাদানের মধ্যে আাকিদা-বিশ্বাস তথা জীবনবাধ হচ্ছে প্রথম ও প্রধান নিয়ন্ত্রককারী উপাদান। ইসলামি সংস্কৃতির মডেল ইসলামি সংস্কৃতির মডেল বিশমানবতার মুক্তির দিশারি হযরত মুহাম্মাদ (সা.)-এর জীবনাদর্ণ। আল্লাহ তায়ালা বলেন, "নিশ্চই তােমাদের জন্য রাসুলের জীবনে রয়েছে সর্বোত্তম আদর্শ।" (সূরা আহযাব : ২১)

"রাসুল (সা.) তােমাদের জন্য যা প্রদান করেন, তা গ্রহণ কর, আর যা নিষেধ করেন, তা থেকে বিরত থাক।"

মহানবি হযরত মোহাম্মদ (সা.) বলেন, "তােমরা অনুসরণ কর আমার সুন্নাহ ও সুপথপ্রাপ্ত খুলাফায়ে রাশেদিনের সুন্নাহ।" (মুসনাদে আহমদ) |

ইসলামি সংস্কৃতির গুরুত্বঃ আমাদের ব্যবহারিক জীবনে ইসলামি সংস্কৃতির গুরুত্ব অপরিসীম। এ ব্যাপারে নিচে আলােচনা করা হলো:
ইমান আকিদার সংরক্ষক আকাইদ তাওহিদ, রিসালাত ও আখিরাত এ তিনটি উপাদানের সমন্বয়ে গঠিত। ইসলামি সংস্কৃতি সংরক্ষণ ও লালন ছাড়া মুসলমানদের ইমান, অস্তিত্ব ও স্বকীয দুষ্কর। ইমানের পূর্ণতা দানের জন্য এবং ইসলামে পুরােপুরি প্রবেশের জন্য ইসলামি সংস্কৃতি রক্ষা করা একান্ত দায়িত্ব। সংস্কৃতি একটি জাতির অস্তিত্ব। সংস্কৃতি অত্যন্ত শক্তিশালী একটি অস্ত্র। অনেক সময় বিজয়ী সাংস্কৃতিক প্লাবনে বিজিত আাতির হয়ে যায়। ইংরেজরা আমাদের স্বাধীনতার ওপরেগ চালায়নি, তারা আমাদের শিক্ষা ও সংস্কৃতির ওপরও মারাত্মক আঘাত হেনেছিল। মুসলিমদের অস্তিত্ব রক্ষার জন্য মহানবি (সা.) অন্যদের অনুকরণ করতে নিষেধ করেন। তিনি বলেন, "যে ব্যক্তি অন্য জাতির অনুকরণ করে তাকে সেই জাতির অন্তর্ভুক্ত বলে গণ্য করা হবে।" (তবারানী)।

অন্য ধর্মাবলম্বীদের ধর্মীয় প্রতীক গ্রহণ করা মুসলিমদের জন্য কড়াকড়িভাবে নিষিদ্ধ। ইসলামি সংস্কৃতির মূল লক্ষ্য হলাে মানুষকে চূড়ান্ত সাফল্যের তথা আখিরাতের সাফল্যের জন্য নিয়ে যাওয়া। সংস্কৃতির অনুসরণ ও অনুশীলনের চুড়ান্ত লক্ষ্য হচ্ছে মানুষের পরকালীন জীবনে মুক্তি, আল্লাহ তায়ালার দিদার লাভ। আর আখিরাত জীবনের এ সাফল্য আর্জনের জন্য ইসলামি সংস্কৃতির গুরুত্ব অপরিসীম।

সম্পর্কিত প্রশ্নগুচ্ছ

1 উত্তর
1 উত্তর
1 উত্তর
অ্যান্সগুরু বাংলা ভাষায় সমস্যা সমাধানের একটি অনলাইন কমিউনিটি। এখানে আপনি প্রশ্ন করতে পারবেন এবং অন্যদের প্রশ্নে উত্তর প্রদান করতে পারবেন ৷ আর অনলাইনে বিভিন্ন সমস্যার সমাধানের জন্য উন্মুক্ত তথ্যভাণ্ডার গড়ে তোলার কাজে অবদান রাখতে পারবেন ৷

1,381 টি প্রশ্ন

1,164 টি উত্তর

5 টি মন্তব্য

50,668 জন সদস্য

5 Online Users
2 Member 3 Guest
Online Members
Today Visits : 3765
Yesterday Visits : 9030
Total Visits : 337303
...