কোম্পানির পাওনা পরিশােধ এবং বাংলার রাজধানী স্থানান্তর সম্পর্কে জানতে চাই? - অ্যান্সগুরু
28 বার প্রদর্শিত
"পড়াশোনা" বিভাগে করেছেন

এই প্রশ্নটির উত্তর দিতে দয়া করে প্রবেশ কিংবা নিবন্ধন করুন ।

1 উত্তর

0 পছন্দ 0 জনের অপছন্দ
করেছেন
কোম্পানির পাওনা পরিশােধ : ১৭৬০ খ্রিস্টাব্দে ইংরেজগণ মীরজাফরকে সিংহাসনচ্যুত করে কতিপয় চুক্তির বিনিময়ে তার জামাতা মীর কাসিমকে বাংলার সিংহাসনে বসান। মীর কাসিম একজন সুদক্ষ শাসক এবং দূরদর্শী রাজনীতিবিদ ছিলেন। সিংহাসনে আরোহণ করেই তিনি চুক্তি মােতাবেক হংরেজদের দেনা পাওনা মেটানোর জন্য সচেষ্ট হন। দূরদষ্টিসম্পন্ন মীর কাসিম ভালােভাবেই উপলব্ধি করেছিলেন যে, অর্থ প্রদানের অক্ষমতাই মীরজাফরের পতনের অন্যতম কারণ। কাজেই তিনি বর্ধমান, মেদিনীপুর এবং নগদ অর্থ প্রদান করে কোম্পানির নিকট থেকে ঝণমুক্ত হন।

नবাবের অর্থ সংগ্রেহ : নবাব নিজের অবস্থানকে সুসংহত করে শাসনকযবস্থার পুনর্গঠনে আত্মনিয়োগ করেন। কিন্তু তার পূর্বেই তিনি দিল্লির সম্রাট শাহ আলমের নিকট খেকে নবাব পদের স্বিকৃতি লাভ করে রাজত্ব সংস্কারে মনােনিবেশ করেন। তিনি বাংলা, বিহারের উদ্ধত জমিদারদের বিদ্রোহ কঠোর হস্তে দমন করে অতিরিক্ত কর ধার্য করেন। তিনি পূর্ববর্তী নবাবি আমলে সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযােগে উচ্চপদস্থ কর্মচারী, অভিজাতবর্গ এবং মীরজাফর পরিবারের সঞ্চিত অর্থ বাজেয়াণ্ত করে শূন্য কোষাগার পূর্ণ করেন।

রাজধানী স্থানাস্তর : মীর কাসিম ছিলেন একজন সুযাগ্য শাসক এবং একনিষ্ঠ দেশপ্রেমিক। তিনি সুদুর প্রসারী রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে উপলন্ধি করেন যে, ইংরেজদের রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ বন্ধ করতে না পারলে ভবিষ্যতে তারাই এ দেশের ভাগ্যবিধাতা হয়ে দাঁড়াবে। রাজধানীতে ব্রিটিশ রেসিডেন্ট নিযুক্ত, রাজ্যশাসন ব্যাপারে ইংরেজদের অবৈধ হস্তক্ষেপ স্বাধীনচেতা মীর কাসিমের অসহনীয় ছিল। তাই প্রশাসনকে ইংরেজ প্রভাবমুক্ত রাখার জন্য বিচক্ষণ নবাব সর্বাগ্রে রাজধানী।

মুর্শিদাবাদ: এখান থেকে সঙ্গে স্থানান্তরিত করেন। নবপ্রতিষ্ঠিত রাজধানীর চারপাশে তিনি পরিখা খনন এবং দূর্গ নির্মাণ করে এর নিরাপত্তা নিশ্চিত করেন। নবাবের রাজধানী স্থানান্তরের বিবিধ কারণসমূহ ছিল। প্রথমত, সিংহাসন লাভের পরপরেই ইংরেজগণ জগতশেষ্ঠ, রায়দুর্লভ প্রমুখ নেতবর্গর সহীয়তায় গরীর কাসিমাকে সিংহাসনচ্যুত করার চেষ্টা করে। কাজেই ষড়্যন্ত্রের বেড়াজালে আবন্ধ মুর্মিদাবাদের রাজধানী তিনি মুঙ্গেরে স্থানান্তরিত করে তা অধিকতর সুরক্ষিত করেন। মীর কাসিম ইংরেজ আম্নপ্ত তাবেদার কর্মচারী এবং অমিদারদেরকে কঠোর শাস্তির বিধান করলে ইংরেজগণ নবাবের উতেজিত হন। ফলে ইংরেজদের প্রভাবমুক্ত করার জন্য কলিকাতা থেকে অধিক দুরে রাজধানী স্থানান্তর করে সুদৃঢ় দুর্গ নির্মাণ করেন। তৃতীয়ত, তিনি কতিপয় ইউরাপীয় সেনাপতির সাহায্যে সেনাবাহিনী সুশিক্ষিত এবং সুসজ্জিত করে তােলেন। চতুর্থত, সমুঙ্গেরে অন্ত্র কারখানা স্থাপন করে কামান, বন্ধুক এবং গােলাবারুদ তৈরি করেন। নবাবের কার্যবিধি লক্ষ করে ইংরেজগণ অতিমাত্রায় সন্ধিহান হয়ে পডলেন।

পঞ্চমত, ইংরেজগণ কর্তৃক যুদ্ধ আক্রান্ত হলে তিনি সুরক্ষিত দুর্গ থেকে তাদের আক্রমণ প্রতিহত করবেন অথবা ব্যর্থ হলে তিনি অযােধ্যায় আশ্রয় গ্রহণ করতে পারবেন। মীর কাসম কর্তক রাজধানী স্থানন্তের এবং প্রতিরক্ষামৃলক ব্যবস্থা গ্রহণের পূর্বেই ইংরেজদের সাথে তার সংঘর্ষ অনিবার্য হয়ে ওঠে। ১৭১৭ সালে দিল্লির বাদশার ফরমানবলে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি বাংলা, বিহার ও উড়িষ্যায় বিনা শুল্কে অবাধ বাণিজ্যের সুযােগ-সুবিধা লাভ করেছিল। কিন্তু বাংলার নবাব কর্তৃক কোম্পানিকে নবাবি পাঞ্জা বা "দস্তক" প্রদানের মাধ্যমে কোম্পানির ব্যবসায়িক সীমাবদ্ধতা নির্ধারণ করা হয়েছিল। এ দস্তকে উল্লেখ ছিল যে ইস্ট ইডিয়া কোম্পানি কেবলমাত্র দেশীয় বণিকদের নিকট থেকে পণ্যদ্রব্য ও অন্যান্য মালামাল ক্রেয় করতে পারবে। কোম্পানির কর্মচারীদের দেশের অভ্যন্তর থেকে পণযাদ্রব্য ও মলামাল ক্রয় করা সস্পূর্ণ নিষিদ্ধ ছিল। দেশের অভ্যন্তর থেকে পণ্যদ্রব্য ও মালামাল ক্রয় ও পরিবহনের অধিকার একমাত্র দেশীয় বণিকদের ছিল এবং সেজন্য তাদেরকে সরকারকে শুক্ক প্রদান করতে হতাে। পলাশী যুদ্ধে জয় লাভের পর থেকে সইন্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি এ দস্তকের অপব্যবহার শুরু করে। ইংরেজ কোম্পানির দুর্নীতিবাজ কর্মচারিগণ ব্যক্তিগত স্বার্থে অধিক মুনাফা লাভের জন্য দেশের অভ্যন্তর থেকে বিনা শুন্ধে মালামাল আনা নেওয়া শুরু করে। ফলে দেশীয় বণিকগণ ব্যবসা ক্ষেত্রে অতিমাত্রায় ক্ষতিগ্রন্ত হয় এবং নবাব নিজেও শুন্ক থেকে বঞ্চিত হন। দস্তক অপব্যবহারের প্রতিকার চেয়ে মীর কাসিম কোম্পানির গভর্নর ভান্সিটার্টকে পত্র প্রেরণ করেন। নবাব পত্রে উল্লেখ করেন যে, বাদশাহী ফরমানে বিনা শুল্কে ইন্ট ইন্ডিয়া কোম্প্ানির বাণিজ্যিক অধিকার থাকলেও কোম্পানির কর্মচারীদের নেই। কিন্তু তারা ঢাকা, কলিকাতা ও কাশিম বাজারে সরাসরি নবাবের দস্তককে অস্বীকার করে অবাধে ব্যবসা বাণিজ্য করছে এবং পাটনা কুঠির এলিস সাহেব খােলাখুলিভাবে নবাবের বিরােধিতা করে। ফলে দেশের অভ্যন্তরীণ বাণিজ্যের ক্ষেত্রে এক অরাজক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। ভান্সিটার্ট নবাবের এসব অভিযােগ সত্য বলে মেনে নিলেও ব্যক্তিগতভাবে তাঁর কিছু করার ছিল না। কারণ কোম্পানির অধিকাংশ কাউন্সিলার ছিলেন নবাবের প্রতি ক্ষুর্ধ। ফলে নবাব কো্পানির নিকট এর প্রতিকারে ব্যর্থ হয়ে ইংরেজ বণিকদের সাথে দেশীয় বণিকদেরও বাণিজ্য শুন্ক উঠিয়ে নেন। এতে নবাব ক্ষতিগ্রস্তু হলেও দেশি এবং বিদেশি বণিকদের অন্যায় বাণিজ্যিক প্রতিযোগিতার -পথ বন্ধ হয়ে যায়। ফলে ইংরেজ কোম্পানি নবাবের প্রতি রুষ্ট হয়ে পড়েন।

সম্পর্কিত প্রশ্নগুচ্ছ

1 উত্তর
1 উত্তর
25 নভেম্বর 2021 "পড়াশোনা" বিভাগে জিজ্ঞাসা করেছেন Md. Redowan lslam
অ্যান্সগুরু বাংলা ভাষায় সমস্যা সমাধানের একটি অনলাইন কমিউনিটি। এখানে আপনি প্রশ্ন করতে পারবেন এবং অন্যদের প্রশ্নে উত্তর প্রদান করতে পারবেন ৷ আর অনলাইনে বিভিন্ন সমস্যার সমাধানের জন্য উন্মুক্ত তথ্যভাণ্ডার গড়ে তোলার কাজে অবদান রাখতে পারবেন ৷

1,381 টি প্রশ্ন

1,164 টি উত্তর

5 টি মন্তব্য

50,705 জন সদস্য

2 Online Users
1 Member 1 Guest
Online Members
Today Visits : 3834
Yesterday Visits : 9030
Total Visits : 337372
...